নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে মেঘনা নদীবেষ্টিত চরাঞ্চলে যৌথবাহিনীর অভিযানে পুলিশের লুট হওয়া একটি বিদেশি পিস্তলসহ বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ, ককটেল, মাদক ও নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় পাঁচজনকে আটক করা হয়।
শুক্রবার ভোর সাড়ে পাঁচটা থেকে আড়াইহাজার উপজেলার কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের খালিয়ার চর, মধ্যর চর ও কদমীর চর এলাকায় এই যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে সেনাবাহিনীর ১৪০ জন সদস্যের সঙ্গে ১০ জন পুলিশ সদস্য অংশ নেন।
অভিযান শেষে খালিয়ার চর এলাকার জাহানারা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে যৌথবাহিনী জানায়, অভিযানে আড়াইহাজার থানা থেকে লুট হওয়া একটি ৯ এমএম পিস্তল, দুটি পিস্তল ম্যাগাজিন, ১০ রাউন্ড গুলি, একটি পিস্তল কভার ও পাঁচটি শটগান কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি আটটি ককটেল, বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র, একটি ইলেকট্রিক শক দেওয়ার যন্ত্র, একটি মোবাইল ফোন এবং নগদ ১০ লাখ ১৫ হাজার ৮ টাকা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত দেশীয় অস্ত্রের মধ্যে টেটা, রামদা ও বড় ছোরা রয়েছে।
আটক ব্যক্তিরা হলেন খালিয়ার চর এলাকার বাসিন্দা মোঃ স্বপন (৪৫), পিতা মৃত হযরত আলী; মোঃ পারভেজ (১৮), পিতা মোঃ কালাই মিয়া; আব্দুল মতিন (৫০), পিতা মৃত শামছুল হক; মোঃ জাকির (২৮), পিতা মৃত এরশাদ এবং কালাপাহাড়িয়া এলাকার বাসিন্দা মোঃ রেন্টু মিয়া (৫১), পিতা মৃত শুক্কুর আলী।
প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় গত বছরের ৯ আগস্ট থেকে আড়াইহাজারে ৯ পদাতিক ডিভিশনের অধীন ৪৫ এমএলআরএস রেজিমেন্ট আর্টিলারি মোতায়েন রয়েছে। মোতায়েনের পর থেকে ইউনিটটি নিয়মিত টহল, চেকপোস্ট স্থাপন, পোশাক কারখানায় নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং মাদক ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে কাজ করে যাচ্ছে।
ব্রিফিংয়ে আরো বলা হয়, কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের চরাঞ্চল চারদিক নদী দিয়ে বেষ্টিত হওয়ায় এলাকাটি ভৌগোলিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং দীর্ঘদিন ধরে অপরাধপ্রবণ হিসেবে পরিচিত। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সেখানে থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র, অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও মাদক মজুত থাকার তথ্য পাওয়া যায়। পরে সন্দেহভাজনদের পালানোর সুযোগ না দিতে ভোরে একযোগে কর্ডন ও সার্চ অপারেশন শুরু করা হয়।
প্রেস ব্রিফিংয়ে ৪৫ এমএলআরএস রেজিমেন্টের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জুবায়ের বলেন, এই অভিযানের ফলে চরাঞ্চলে অপরাধমূলক তৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে বলে যৌথবাহিনী আশাবাদী। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে এলাকার নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এ ধরনের অভিযান আরো জোরদার করা হবে। তিনি আরো বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

