নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে আদমজী ইপিজেডে ‘অনন্ত এপারেলস লি.’ পোশাক কারখানায় অসুস্থবোধ করার পর ছুটি না পাওয়ায় মারা গেছেন এক নারী শ্রমিক।
নিহত লিমা আক্তার কুমিল্লার দেবিদ্বার থানাধীন চরবকল গ্রামের বাসিন্দা কাউসারের স্ত্রী। সিদ্ধিরগঞ্জের কদমতলী গ্যাসলাইন এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় স্বামীসহ পাঁচ বছরের একমাত্র কন্যা সন্তান নিয়ে থাকতেন।
এদিকে বুধবার সকালে কাজে যোগ না গিয়ে কারখানার সামনে বিক্ষোভ করেন শ্রমিকরা। দুপুরের দিকে কর্তৃপক্ষ সকল শ্রমিকদের ছুটি ঘোষণা করে।
শ্রমিকদের অভিযোগ, লিমা আক্তার (৩০) অসুস্থবোধ করার পর ছুটি চাইলে তা মঞ্জুর করেনি কারখানা কর্তৃপক্ষ। এরফলে কারখানাতেই তার মৃত্যু হয়। অন্যদিকে কারখানা কর্তৃপক্ষ বলছে ঐ নারী শ্রমিক অফিসের অ্যাম্বুল্যান্সে হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা গেছেন।
বিক্ষোভে অংশ নিয়ে লিমা আক্তারে সহকর্মীরা জানান, মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে অসুস্থ বোধ করায় লিমা আক্তার কারখানা কর্তৃপক্ষের কাছে ছুটি চায়। কিন্তু কর্তৃপক্ষ তাকে ছুটি না দিয়ে কাজে যোগদান করতে বলে। পরে রাত ৯টার দিকে অসুস্থ লিমা আক্তার কর্মস্থলেই মৃত্যুবরণ করেন। কারখানা ম্যানেজমেন্টের অবহেলার কারণেই লিমা আক্তারের মৃত্যু হয়েছে।
লিমার স্বামী কাউসার বলেন, আমার স্ত্রী অসুস্থ থাকায় গতকাল কারখানায় যেতে চায়নি। পরে কারখানা থেকে ফোন করে আমার স্ত্রীকে কাজে নিয়ে যায়। আমার স্ত্রী তাদের কাছে ছুটি চাইলেও তারা ছুটি দেয়নি। রাতে খবর পাই স্ত্রী মারা গেছে।
এ বিষয়ে অনন্ত এপারেলস লি. এর এইচআর এডমিন নাজমুল জানান, কারখানার ভেতরে লিমা আক্তারের মৃত্যু হয়েছে বিষয়টি সঠিক নয়। শ্রমিক লিমা আক্তার অসুস্থ এমন সংবাদ পেয়ে দ্রুত অ্যাম্বুল্যান্সে করে তাকে খানপুর তিনশ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
আদমজী ইপিজেডের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর (ই.ডি) মাহাবুব আহমেদ সিদ্দিক জানান, নারী শ্রমিক লিমা আক্তার অসুস্থ জনিত কারনে মারা যায়। কিন্তু শ্রমিকদের মধ্যে গুজব ছড়িয়ে পড়ে ছুটি না দেয়ার কারনে কারখানার ভেতরে সে মারা গেছে। এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে শ্রমিকরা সকালে কাজে যোগ না দিয়ে গার্মেন্টের সামনে বিক্ষোভ করে। পরে ইপিজেড কর্তৃপক্ষ তাদের বুঝিয়ে বিষয়টি অবহিত করে এবং কারাখানা কর্তৃপক্ষ ছুটি দিলে শ্রমিকরা চলে যায়।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

