হৃদরোগে আক্রান্ত অসহায় রোগীর হারানো দেড় লক্ষাধিক টাকা ফিরিয়ে দিয়ে সততার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন ফরিদপুরের ভাঙ্গা পৌর সদরের চায়ের দোকানদার জোবায়ের হোসেন।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ভাঙ্গা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাদরুল আলম সিয়ামের কার্যালয়ে উপস্থিত সাংবাদিক ও সুধী-জনের সামনে টাকার মালিকের হাতে বুঝিয়ে দেওয়ার পর প্রশংসায় ভাসছেন তিনি।
গত ৯ ফেব্রুয়ারি বিকেলে টাকা-ভর্তি ব্যাগটি জুবায়ের হোসেন নিজের চায়ের দোকানে পেয়েছিল।
আরও জানা গেছে, ভাঙ্গা পৌরসদরের বটতলা মোড় সংলগ্ন হাইওয়ে থানার সামনে জোবায়ের হোসেনের চায়ের স্টল। দীর্ঘদিন ধরে হরেকরকমের চা বিক্রি করে ভাইরাল টিস্টল ব্যবসায়ী বলে তিনি এলাকায় পরিচিত লাভ করেন।
গত ৯ ফেব্রুয়ারি বিকেলে ভুলক্রমে জুবায়ের হোসেনের চায়ের দোকানে আলগী ইউনিয়নের শাহমল্লিকদী গ্রামের বাসিন্দা মিরাজ শেখ তার চিকিৎসার জন্য রক্ষিত টাকার ব্যাগটি ফেলে আসেন। টাকার ব্যাগটি পেয়ে জোবায়ের হোসেন বিচলিত ও উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠেন। বিষয়টি কাউকে কিছু না জানিয়ে মূল মালিকের সন্ধান শুরু করেন তিনি। টাকা হারিয়েছে কারো কাছ থেকে কোন সদুত্তর না পাওয়ায় তিনি আরও হতাশ হয়ে ওঠেন।
অবশেষে এলাকায় মাইকিং প্রচারণার পাশাপাশি তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করেন। অতঃপর প্রচারণার সূত্রতায় টাকার অংকের পরিমাণ, ব্যাগের রংয়ের সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর ভাঙ্গা সহকারী কমিশনারের উপস্থিতিতে হারানো টাকার মালিক হৃদরোগে আক্রান্ত রোগী মিরাজ শেখের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
মিরাজ শেখ বলেন, হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ায় অপারেশনের জন্য তিনি টাকাগুলো রেখেছিলেন। কিন্তু মানসিক বিকারগস্ত হওয়ায় টাকা হারানোর পর থেকে তিনি আরও ভেঙে পড়েছিলেন।
হতাশায় নিমজ্জিত মুহূর্তে টাকা পাওয়ার খবরের মাইকিং ও প্রচারণা দেখে তিনি জোবায়েরের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। টাকাগুলো একজন সৎ মানুষের হাতে পড়েছিল উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, আল্লাহ পাকের ইচ্ছেতে দুনিয়ায় আজও ভালো মানুষ রয়েছে তানা হলে তার চিকিৎসা হয়তো সম্ভব হতো না বলেই অঝোরে কান্নায় ভেঙে পড়েন অসহায় মিরাজ শেখ।
জোবায়ের হোসেন বলেন, সততা, ন্যায় ও নীতি মানুষের জীবনকে প্রভাবিত করে। টাকাগুলো হারিয়েছিল যার তার সন্ধান করে টাকাগুলো ফিরিয়ে দেওয়ার মধ্যে দিয়ে আমার ঈমানি দায়িত্ব পালন করেছি।
ভাঙ্গা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাদরুল আলম সিয়াম বলেন, জোবায়ের মিয়া তার সঙ্গে যোগাযোগ করে হারানো টাকা প্রকৃত মালিকের কাছে ফেরত দিতে সহযোগিতা চেয়েছিলেন। প্রমাণ যাচাই-বাছাই শেষে মালিকের হাতে টাকা তুলে দেওয়া হয়েছে। চায়ের দোকানদার জোবায়ের মিয়া সততার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

