শরীয়তপুরের জাজিরায় একদিনের ব্যবধানে ফের বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এবার উপজেলার বি কে নগর ইউনিয়নের একটি বসতবাড়ির টয়লেটের ছাদে বিস্ফোরণে সেটি ভেঙে পড়েছে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় টয়লেটের ওপর থাকা পানির ট্যাংকটি ছিটকে গিয়ে বাড়ির অন্য জায়গায় পড়ে। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি।
বুধবার সকাল ৯টার দিকে বি কে নগর ইউনিয়নের কদম আলী মাদবর কান্দি গ্রামের জব্বার মাদবরের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। বিকট শব্দে বিস্ফোরণের পর আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে এসে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িটি পরিদর্শন করেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বিস্ফোরণের শব্দ এতটাই বিকট ছিল যে আশপাশের লোকজন আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। বিস্ফোরণের পর টয়লেটের ছাদ ভেঙে যায় এবং সেখানে থাকা পানির ট্যাংকটি ছিটকে অন্যত্র গিয়ে পড়ে। তবে ঘটনার সময় আশপাশে কেউ না থাকায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
খবর পেয়ে জাজিরা থানা পুলিশের একটি তদন্ত দল ঘটনাস্থলে গিয়ে বিস্ফোরণের স্থান পরিদর্শন করে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে। কী ধরনের বিস্ফোরক ব্যবহার করা হয়েছিল, সেটি কীভাবে সেখানে এল এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত—এসব বিষয় খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
স্থানীয়রা জানান, এর মাত্র একদিন আগে উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নে মালয়েশিয়া প্রবাসী মো. আলী উজ্জামাল হাওলাদারের বাড়ির পেছনে থাকা সেপটিক ট্যাংকে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
এতে সেপটিক ট্যাংকের একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘটনাস্থল থেকে ককটেলের আলামতও উদ্ধার করে পুলিশ। এর একদিন না পেরোতেই বি কে নগর ইউনিয়নে ফের বিস্ফোরণের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
এদিকে, গত কয়েক মাসে জাজিরার বিলাসপুর ইউনিয়নে একাধিক ককটেল বিস্ফোরণ, কবরস্থান থেকে বিপুলসংখ্যক তাজা ককটেল উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে।
এছাড়া আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ককটেল নিক্ষেপ ও বিস্ফোরণের একাধিক ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। সর্বশেষ একদিনের ব্যবধানে উপজেলার দুটি পৃথক ইউনিয়নে বিস্ফোরণের ঘটনায় জাজিরার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সালেহ আহম্মদ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনাস্থলের অবস্থা দেখে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বিস্ফোরকটি আগে থেকেই সেখানে রাখা ছিল। রোদের তাপে গরম হয়ে সেটি বিস্ফোরিত হয়ে থাকতে পারে।
ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। বিস্ফোরকটি কীভাবে সেখানে এলো এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত, তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

