জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে সালিশ বৈঠকে এক বৃদ্ধা সৎমাকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করার অভিযোগ উঠেছে তারই সৎছেলেদের বিরুদ্ধে। আহত ওই বৃদ্ধার নাম মনোয়ারা বেগম (৬০)। হামলার পর গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
রোববার (১২ এপ্রিল) রাত ১০টার দিকে ফরিদপুরের সালথা উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের কাঁঠালবাড়িয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। হামলা ঠেকাতে গিয়ে মনোয়ারা বেগমের আপন ছেলে আব্দুর রাজ্জাকও আহত হয়েছেন। আহত মনোয়ারা বেগম কাঁঠালবাড়িয়া গ্রামের সিদ্দিকুর রহমানের স্ত্রী।
আহত মনোয়ারা বেগমের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পারিবারিক সম্পত্তি ও বসতভিটা নিয়ে মনোয়ারা বেগমের সঙ্গে তার সৎছেলে হিরু মাতুব্বর (৩৫), রিপন মাতুব্বর (৪৩) ও ফিরোজ মাতুব্বরের (৪০) দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এই বিরোধের জেরে গত শনিবার সৎসন্তানেরা মনোয়ারাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। পরদিন রাতে বিষয়টি সালিশের মাধ্যমে মীমাংসার জন্য উদ্যোগ নেন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
এ বিষয়ে গ্রামবাসী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সালিশ বৈঠক বসে। কিন্তু সালিশের একপর্যায়ে মনোয়ারাকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেন তার সৎছেলে হিরু, রিপন ও ফিরোজ। এতে তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এ সময় হামলা থেকে মাকে রক্ষা করতে গেলে তার ছেলে আব্দুর রাজ্জাকও আহত হন। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
এ ঘটনায় হামলাকারী অভিযুক্ত হিরু মাতুব্বর, রিপন মাতুব্বর ও ফিরোজ মাতুব্বর পলাতক রয়েছেন। পলাতক থাকায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সম্পত্তির লোভে সৎমাকে মারধরের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ফরিদপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল-নগরকান্দা) মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, হামলার খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। আহত ওই নারী বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তবে তার পরিবারকে থানায় একটি এজাহার দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

