রাব্বি কাজী থাকেন ইতালিতে, অথচ আপন ভাবিকে মারধর আর যৌতুকের জন্য নির্যাতন মামলায় আসামি করা হয়েছে মাদারীপুর আদালতে।
ন্যায়বিচারের দাবিতে সোমবার দুপুরে মাদারীপুর সদর উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের মিরিকদিয়া গ্রামে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।
এমনকি একই প্রবাসী পরিবারের আরো চারজনকে আসামি করে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে।
লিখিত অভিযোগে ইতালি প্রবাসী রাব্বি কাজীর মা রাহিলা বেগম জানান, তার মেঝছেলে ইতালি প্রবাসী মিলন কাজীর সাথে পার্শ্ববর্তী নতুন রাজারহাট এলাকার হবিবার বেপারীর মেয়ে রেকসনা বেগমের বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাদের দু’টি সন্তান হয়। কিন্তু গেলো তিন বছর আগে মিলন আর রেকসনার মনোমালিন্য হয়। এরপরে রেকসনা তার বাবার বাড়িতে থাকেন। তখন তাদের ভরণপোষণ বাবদ প্রতি মাসে ২৫ হাজার টাকা দেয় মিলন। তবুও রেকসনা বাদী হয়ে দুটি মামলা দেয় মিলনসহ তার পরিবারকে জড়িয়ে।
পরে স্থানীয়ভাবে সালিশ-মীমাংসা করে পুনরায় রেকসনা মিলনের বাড়িতে এসে সংসার করে। কিন্তু গেল ৩ জুন রেকসনা বেগম মাদারীপুর চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আমার ছেলে মিলন কাজী, রাব্বি কাজী, মিঠু কাজী ও আমাকে আসামি করে একটি মারধর ও যৌতুকের জন্য নির্যাতনের মামলা দায়ের করে।
এ ব্যাপারে মিলনের মা রাহিলা বেগম বলেন, 'আমার ছেলের প্রায় ২৫ লাখ টাকা নিয়ে গেছে রেকসানা। তারপরও আমাকে ও আমার ছেলেদের জড়িয়ে মিথ্যে মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। আমার ছোট ছেলে রাব্বি কাজী দুই মাস আগে ইতালি গেছে।
তাকেও এ মামলায় আসামি করা হয়েছে। আমি এই ঘটনার বিচার দাবি করছি।
স্থানীয় আলমগীর হাওলাদার বলেন, বিষয়টি নিয়ে একাধিক বার দরবার সালিশ হয়েছে কিন্তু ওই মেয়ে মীমাংসা মানেনি। তারা এখন মামলার বাণিজ্যে নেমেছে। আমরা চাই, এখানে দুই পরিবার মিলেমিশে বসবাস করুক। এতে তাদের শান্তি ফিরে আসবে।
এ ঘটনার পর রেকসনাকে তার বাড়িতে পাওয়া যায়নি। ফোন করলে তিনি দাবি করেন, 'আমি সত্য ঘটনায় মামলা দায়ের করেছি। আমার স্বামীর পরিবার আমাকে নির্যাতন করেছে। আমি ন্যায়বিচার দাবি করি।'
আর ঘটনার সত্যতার বিষয় তদন্ত চলছে বলে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আদিল হোসেন দাবি করেন। ওসি বলেন, আদালতে একটি মামলা দিয়েছে। সেটি তদন্ত করা হচ্ছে। দোষী ছাড়া কাউকে হয়রানি করা হবে না।
এমএস
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

