২ মাসে ১ লাখ চারা গাছ রোপণ

প্রতিশ্রুতি রাখলেন নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক

প্রতিশ্রুতি রাখলেন নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক

ইট সুরকির শহরে ২ মাসে ১ লাখ চারা গাছ লাগিয়ে প্রতিশ্রুতি রাখলেন নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

বৃহস্পতিবার নারায়ণগঞ্জের প্রবেশমুখ সাইনবোর্ড এলাকার সড়কদ্বীপে এক লাখতম কৃষ্ণচূড়া গাছটি রোপণ করে এ কর্মসূচির ঐতিহাসিক মাইলফলক অর্জনের ঘোষণা দেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উদ্দেশ্য এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) সাথে সামঞ্জস্য রেখে গৃহীত এ কর্মসূচির সূচনা হয় গত ১০ মে। ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরীর মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে একটি বকুল গাছ রোপণের মধ্য দিয়ে শুরু হয় এ পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ।

পরবর্তীতে সরকারের একাধিক উপদেষ্টা ও সচিবগণ এ কর্মসূচির আওতায় শহরের বিভিন্ন স্থানে বৃক্ষরোপন করেন।

গত দুই মাসজুড়ে জেলার ৫টি উপজেলা, ৩৯টি ইউনিয়ন, ৫টি পৌরসভা এবং নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ২৭টি ওয়ার্ডে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পরিচালিত হয়। এ সময়ে ১১৭টি নির্ধারিত স্পট, ৪২টি সরকারি প্রতিষ্ঠান, ৩১০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ১৮০.৩ কিলোমিটার সড়ক এবং ৪ কিলোমিটার খালপাড়ে সর্বমোট এক লাখ গাছ রোপণ করা হয়। দেশি-বিদেশি ৪৮টি প্রজাতির গাছের মধ্যে রয়েছে চেরি, গোলাপি ট্রাম্পেট, জাকারান্ডা, ফক্সটেল পাম, গ্লোরিয়া সিরিয়া, রেইন ট্রি প্রভৃতি।

বিশেষভাবে নজরকাড়া অংশ হিসেবে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে রোপণ করা হয়েছে ৩,০০০টি দেবদারু গাছ, যা পুরো করিডোরটিকে সবুজ ও মনোরম পরিবেশে রূপান্তর করেছে। পাশাপাশি হাজীগঞ্জ দুর্গ, শীতলক্ষ্যা নদীর তীরসহ জেলার ঐতিহাসিক ও পর্যটন সম্ভাবনাময় এলাকাগুলোতেও বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে সবুজায়ন কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।

কর্মসূচিতে জেলার রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজ, ছাত্র সংগঠন, সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, পরিবেশ সচেতন সংগঠনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। মাঠপর্যায়ে কাজ করেছেন ১৫৬ জন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, ১০০ জন পরিচ্ছন্নতা কর্মী, ৬৬০ জন বাগান শ্রমিক, অগণিত স্বেচ্ছাসেবক এবং অন্তত ২০টি সামাজিক ও পরিবেশ সংগঠন।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা এ প্রসঙ্গে বলেন, আমরা এমন একটি নারায়ণগঞ্জ গড়তে চাই, যেখানে নাগরিক সেবা, পরিবেশ রক্ষা এবং ঐতিহ্য একত্রে লালিত হবে। এই কর্মসূচি সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে প্রথম ধাপ।

তিনি জানান, গাছ ও স্থান নির্ধারণের ক্ষেত্রে পর্যটন, বিলুপ্তপ্রায় গাছের সংরক্ষণ, গাছের ওপর নির্ভরশীল জীববৈচিত্র্যের জীবনধারণ, পাখির খাবার ও আশ্রয়, বিশ্রাম, রাস্তা, খাল, পার্ক, পুকুর, নদী, জনসাধারণের ব্যবহৃত স্থান এবং সৌন্দর্যবৃদ্ধি, খাল-পুকুর-নদীর পাড় সুরক্ষা ইত্যাদি বিবেচনায় রেখে সম্পূর্ণ পরিকল্পনার রেখচিত্র ও কৌশল নির্ধারণ করা হয়েছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন