দীর্ঘ ১৭ বছর পর আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় আজ সোমবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা ও পৌর বিএনপির দ্বিবার্ষিক সম্মেলন।
বিএনপির দ্বিবার্ষিক সম্মেলন উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলন করেছেন জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি এসএম জিলানী। রোববার দুপুরে টুঙ্গিপাড়া পৌর বাস টার্মিনালে অনুষ্ঠিত এ সংবাদ সম্মেলনে এসএম জিলানী বলেন, বিএনপির সম্মেলন নিয়ে ষড়যন্ত্র হচ্ছে।
গত ১৭ বছর যারা আমাদের টুঙ্গিপাড়ায় রাজনীতি থেকে বঞ্চিত করেছিল, গণতন্ত্র থেকে বঞ্চিত করেছিল, এই প্রতিপক্ষ কারা যারা ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে একটি দলের সব সদস্য দেশ থেকে পালিয়ে গেছে। কী কারণে গেছে? আপনারা সবাই জানেন। আমি মনে করি প্রতিপক্ষ কারা আপনারা বুঝেছেন।
আওয়ামী লীগকে ইংগিত করে বলেন, তারা নানাভাবে পর্দার অন্তরালে থেকে ষড়যন্ত্র করার চেষ্টা করছে। কিংবা ষড়যন্ত্র করতে পারে। তবে এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ আমরা আপনাদের দিতে পারব না । আমরা এ বিষয়ে একটু খেয়াল রাখতে চাই। সতর্ক থাকতে চাই। আমরা একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল।
টুঙ্গিপাড়া পৌর বাস টার্মিনাল মাঠে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে গোপালগঞ্জ-পিরোজপুর আঞ্চলিক সড়কের পাশে সম্মেলনস্থলে নির্মাণ করা হয়েছে অস্থায়ী প্যান্ডেল। সম্মলনকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মাঝে উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের ঘাঁটি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্বাচনি এলাকায় সম্মেলন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে পারবে কি না এ নিয়ে নেতাকর্মীদের মাঝে রয়েছে শঙ্কা। রোববার দুপুরে সম্মেলনস্থলে সংবাদ সম্মেলন করে এমনটি জানান দেন ওই আসনের (গোপালগঞ্জ-৩ আসনের বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী সেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি এসএম জিলানী।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বিএনপি একটি উদারপন্থি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। বিরোধী মতকে আমরা শ্রদ্ধা ও সম্মান করি। আমাদের নেতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বহু দলীয় গণতন্ত্রে বিশ্বাসী ছিলেন। বিএনপি গণতন্ত্রের কথা বলে এবং গণতন্ত্রের চর্চা করে।
দীর্ঘ সময় আমরা রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিলাম। দেশের মধ্যে ভীতি রাজত্ব কায়েম করেছিল শাসকগোষ্ঠী। হরণ করা হয়েছিল বাকস্বাধীনতা ও ভোটের অধিকার। আমরা গত ১৭ বছর ধরে এ অধিকার আদায়ে রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি। এই আন্দোলন-সংগ্রামের ফলে জুলাই-আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে স্বৈরাচারী সরকার দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। রাজনৈতিক পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আমরা গত ১ জুন কোটালীপাড়ায় সম্মেলন সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করেছি।
দীর্ঘ ১৭ বছর পর টুঙ্গিপাড়া উপজেলা ও পৌর বিএনপির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আমরা ইতোমধ্যে সম্মেলনকে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। তিনি আরো বলেন, আমরা বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পেরেছি এই সম্মেলনকে বানচাল করার জন্য ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসররা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হচ্ছে। আমরা ইতোমধ্যে প্রশাসনকে বিষয়টি জানিয়েছি।
আশা করি আপনাদের সবার সার্বিক সহযোগিতায় সব ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে বিএনপির এ সম্মেলন সম্পন্ন করব। এই সম্মেলনের মাধ্যমে বিএনপির নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টি হবে, যারা দলকে সুসংগঠিত করার পাশাপাশি মানুষের কল্যাণে নিবেদিত হয়ে দেশের কল্যাণে ভূমিকা রাখবে।
এ সময় গোপালগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও পিপি অ্যাডভোকেট কাজী আবুল বশার খায়ের, টুঙ্গিপাড়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ সালাউদ্দিন আহমেদ, সিনিয়র সহসভাপতি মনিরুজ্জামান বাবলু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান নাসির, শেখ শামসুল হক, পৌর বিএনপির সদস্য সচিব এমদাদ হোসেন মোল্লা, বিএনপির নেতাকর্মী ও গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

