গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার ঘাঘরকান্দা এলাকায় চোর সন্দেহে তিন ব্যক্তিকে আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠিয়েছে পুলিশ।
মঙ্গলবার ঘাঘরকান্দা গ্রামের জলিল গাজী বাদী হয়ে কোটালীপাড়া থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় ৩০ জনের নাম উল্লেখের পাশাপাশি আরও ২০০ থেকে ৩০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার সন্ধ্যায় ব্যাটারি চুরির অভিযোগে উপজেলার কাঠিগা গ্রামের মোরসালিন কাজী, চিতশী গ্রামের রাসেল দাড়িয়া এবং ঘাঘরকান্দা গ্রামের আব্দুল্লাহ দাড়িয়াকে আটক করে বেপারীপাড়া গ্রামের মাদকবিরোধী কমিটির কার্যালয়ে রাখা হয়। এ সময় তাদের মারধরের অভিযোগ ওঠে। খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
মামলার বাদী জলিল গাজী অভিযোগ করেন, কাঠিগা ও চিতশী গ্রামের বিপুলসংখ্যক লোকজন সংঘবদ্ধ হয়ে হামলা চালিয়ে মাদকবিরোধী কমিটির কার্যালয় ও আশপাশের ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে এবং আটক তিন ব্যক্তিকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
অন্যদিকে আহত হান্নান বরকতউল্লাহ দাবি করেন, তিনি মারধরের প্রতিবাদ করায় হামলার শিকার হন।
চোর সন্দেহে আটক মোরসালিন কাজী অভিযোগ করেন, তাকে জোরপূর্বক একটি টিনের ঘরে নিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে এবং চুরির সঙ্গে জড়িত থাকার স্বীকারোক্তি দিতে চাপ দেওয়া হয়েছে। তবে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন।
উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রচার সম্পাদক জলিল গাজী বলেন, ব্যাটারি চুরির অভিযোগে তিনজনকে আটকের পর পুলিশকে খবর দেওয়া হয়েছিল। পরে একদল লোক হামলা চালিয়ে কার্যালয় ও ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে এবং আটক ব্যক্তিদের ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
কোটালীপাড়া থানার ওসি মো. রিয়াদ মাহমুদ বলেন, ঘটনার পর এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। মামলার তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে ঘাঘরকান্দা গ্রামের মহন হাওলাদার (২০), শেরজন দাড়িয়া এবং কাঠিগা গ্রামের খোকন ফকির (৪২)-কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

