আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখিপুর) আসনটি তিন যুগ পর পুনরুদ্ধারের হাতছানি বিএনপির সামনে। যদিও দলটিকে কঠিন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিন আলমগীর ও জামায়াত প্রার্থী মো. শফিকুল ইসলাম খান।
আসনটিতে ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন বিএনপি মনোনীত কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আযম খান (ধানের শীষ), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী টাঙ্গাইল জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল শফিকুল ইসলাম খান (দাঁড়িপাল্লা), জাতীয় পার্টির মো. নাজমুল হাসান (লাঙ্গল), বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির আওয়াল মাহামুদ (কোদাল), আমজনতার দলের প্রার্থী আলমগীর হোসেন (প্রজাপতি) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী লাবিব গ্রুপের চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন আলমগীর (হরিণ)। এরই মধ্যে আমজনতার দল মনোনীত প্রার্থী আলমগীর হোসেন ধানের শীষের প্রার্থীকে সমর্থন দিয়েছেন।
মুক্তিযুদ্ধের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত আসনটিতে মোট ভোটার ৪ লাখ ৯ হাজার ৩০৮ জন। উভয় উপজেলায় নারী ও প্রবাসী ভোটার বেশি। বাসাইল উপজেলার একটি পৌরসভা ও ছয়টি ইউনিয়ন এবং সখিপুর উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১০টি ইউনিয়ন নিয়ে আসনটি গঠিত। আসনটিতে মূলত ধানের শীষ, হরিণ ও দাঁড়িপাল্লার ত্রিমুখী লড়াই হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিশাল কর্মী বাহিনী থাকায় জয়ের বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী বিএনপি। এদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী শিল্পপতি সালাউদ্দিন আলমগীর মোটা অংকের অর্থ ঢেলে বিএনপির বেশ কিছু নেতাকর্মীকে নিজের পক্ষে টেনে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে জামায়াতের ভোটও আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে বলে জানা গেছে। বাসাইল উপজেলা বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত, আবার সখিপুরে আওয়ামী লীগের ভোট বেশি। তাই সব প্রার্থীই আওয়ামী লীগের ভোটারদের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করছেন।
এদিকে সবশেষ ১৯৯১ সালে আসনটিতে জয় পেয়েছিল বিএনপি। এরপর আসনটি তাদের হাতছাড়া হয়। তাই তিন দশকের বেশি সময় পরে এসে আসনটি উদ্ধারে মরিয়া হয়ে উঠেছে বিএনপি।
অন্যদিকে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী নির্বাচন বর্জন করে স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিন আলমগীরকে সমর্থন দিয়ে নির্বাচনের মাঠে নামায় ভোটের হিসাব কিছুটা জটিল হয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিন আলমগীর আওয়ামী ঘরানার লোক এবং শেখ ফজলে নূর তাপসের ব্যাবসায়িক সহযোগী হওয়ার সুযোগে তিনি আওয়ামী ভোটারদের টানার চেষ্টা করছেন।
দুটি উপজেলায় জামায়াতে ইসলামীর রয়েছে নিজস্ব ভোট ব্যাংক। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী বাসাইল উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান। ক্লিন ইমেজের কারণে ওই উপজেলায় তার ব্যাপক পরিচিতি। এ কারণে কার্যত ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে পারে জামায়ত।
ভোটের মাঠ ঘুরে জানা গেছে, বাসাইলের তুলনায় সখিপুরে প্রায় এক লাখ ভোট বেশি। যদিও মূল প্রতিদ্বন্দ্বী তিন প্রার্থীর কেউই এ উপজেলার স্থায়ী বাসিন্দা নন। বাসাইল উপজেলার সন্তান বিএনপি প্রার্থী আহমেদ আযম খান এবং জামায়াত ইসলামী প্রার্থী শফিকুল ইসলাম খান। স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিন আলমগীরের পৈত্রিক বাড়ি কালিহাতি উপজেলায়, সখিপুর উপজেলায় তার নানির বাড়ি। এ কারণে সখিপুর উপজেলা থেকে যে প্রার্থী বেশি ভোট কাটতে পারবেন, তিনি বিজয়ের হাসি হাসবেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

