চায়না দুয়ারি জালের ব্যবহার, বিলের ভেতরে অপরিকল্পিতভাবে পুকুর তৈরি এবং কৃষিতে রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহারে হারিয়ে যাচ্ছে দেশীয় মাছ। এখন আর আগের মতো খাল-বিল নদী ও নালায় দেশীয় মাছ মেলে না। ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার চতুল ও শেখর ইউনিয়নের দাদুড়িয়া বিলে গত সোমবার সকালে অনুষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী পলো বাওয়া উৎসবে এমন চিত্রই দেখা গেছে। সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত চলা এ আয়োজনে বিভিন্ন গ্রাম থেকে শত শত মানুষ অংশ নেন। বিলের চারপাশে ভিড় করেন দর্শনার্থীরা।
কারো হাতে পলো, কারো হাতে হুসা, আবার কেউ এসেছিলেন জাল নিয়ে। পানিতে পলো চাপিয়ে মাছ ধরার আনন্দে মেতে ওঠেন সবাই।
স্থানীয় আরেক মাছ শিকারির অভিযোগ, কৃষিজমিতে রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার বেড়েছে। পাশাপাশি চায়না দুয়ারি জালের বিস্তারও মাছ কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ।
তার মতে, শিং, মাগুর, কৈ, বাইন, শোল, টাকি, পুঁটি, মলা ও ঢেলাসহ বিভিন্ন দেশীয় মাছ আগের তুলনায় কম পাওয়া যাচ্ছে। তবে এসব কারণের প্রকৃত প্রভাব জানতে প্রয়োজন বৈজ্ঞানিক জরিপ ও পরিবেশগত মূল্যায়ন। বোয়ালমারী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা পবিত্র কুমার দাস বলেন, আমাদের কাছে দেশীয় মাছ বিলুপ্ত হওয়ার বিষয়ে কোনো জরিপ নেই। তবে মাছের প্রজনন ও পোনা রক্ষায় জালের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। বিলে পানি জমার পর মাছের পোনা যখন বেড়ে ওঠে, তখন সূক্ষ্ম ফাঁসের জালে সেগুলো আটকা পড়লে মাছের বংশবিস্তার বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

