জিন সাপ আতঙ্কে গাংনীর সাহারবাটি গ্রামের মানুষ

জিন সাপ আতঙ্কে গাংনীর সাহারবাটি গ্রামের মানুষ

সাপ আতঙ্কে নির্ঘুম সময় পার করছেন মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার সাহারবাটি গ্রামের মানুষ। গত দুই সপ্তাহে প্রায় অর্ধশতাধিক মানুষকে অদৃশ্য সাপে কেটেছে বলে দাবি এলাকাবাসীর। তবে সাপের দেখা মিলছে না। সাপের কামড়ে জুই খাতুন নামে সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পরই এমন ভয় ছড়ি পড়েছে এলাকায়।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, গত তিন মাসে মেহেরপুরের তিনটি হাসপাতালে ১৩৪ জন সাপে কাটা রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

গত ১২ জুলাই রাতে সাপের কামড়ের শিকার হয় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জুই খাতুন। ওই রাতেই তাকে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান পরিবারের সদস্যরা। আইসিইউ সাপোর্ট না থাকায় পরে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে মেহেরপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে এন্টিভেনাম প্রয়োগের পরও বাঁচানো যায়নি জুইকে। এজন্য চিকিৎসকদের অবহেলাকেই দায়ী করছেন পরিবারের সদস্যরা।

জুইয়ের মৃত্যুর পর থেকেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে সাহারবাটি গ্রামে। জুইকে সাপে কাটার সময় সাপ দেখা গেলেও গ্রামের অন্যদের সাপে কাটার সময় সাপ দেখা যায়নি। এলাকায় কথিত রয়েছে, সাহারবাটি গ্রামে চালানো হয়েছে জিন সাপ। প্রতিদিনই অদৃশ্য সাপের কামড়ের শিকার হচ্ছে ছোট-বড় অনেকেই। প্রতিদিন একাধিক ব্যক্তিকে অদৃশ্য জিন সাপে কেটেছে বলে দাবি এলাকাবাসীর। তবে সাপে কাটা এসব রোগী হাসপাতালে নয়, চিকিৎসা নিচ্ছেন বিভিন্ন গ্রাম্য ওঝাদের কাছে। বিনিময়ে ওঝারাও হাতিয়ে নিচ্ছেন অর্থ।

সরেজমিন সাহারবাটি এলাকায় দেখা যায়, প্রতিটি বাড়িতে এক অজানা আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিশেষ করে শিশুদের মাঝেও এ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। কেউ ঘর থেকে প্রয়োজন ছাড়া তেমন বের হচ্ছে না। সবাই আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে।

মৃত জুইয়ের মা শান্তনা খাতুন বলেন, মেয়েকে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখান থেকে মেহেরপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে রেফার করা হয়। সেখানে কিছুক্ষণ পর মেয়ে মারা যায়। আমার মেয়ের মতো এমন মৃত্যু যেন আর কোনো পরিবারে না হয়।

সাহারবাটি গ্রামের শিশু হুরাইয়া আক্তার বলেন, আমি বাড়ির পাশে সবাইকে নিয়ে খেলা করছিলাম। সেখানে দাঁড়িয়ে থাকাবস্থায় কীসে যেন কামড় দিয়েছিল। পরে ওঝার কাছে নিয়ে গেলে ওঝা বলেন, আমাকে সাপে কামড়েছে।

মেহেরপুর কোর্ট মডেল মসজিদের ইমাম মুফতি সাদিকুর রহমান সাদী বলেন, সর্বপ্রথম সাপে কামড়ানো রোগীদের হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা নিতে হবে। পৃথিবীতে জিনের অস্তিত্ব রয়েছে। তারা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রূপ ধারণ করতে পারে।

গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. একরামুল হক বলেন, হাসপাতালে পর্যাপ্ত পরিমাণ এন্টিভেনাম রয়েছে। তাই গুজবে কান না দিয়ে সাপে কাটা রোগীদের হাসপাতালে এনে চিকিৎসা নিতে হবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন