দাকোপের পানখালীকে এসডিজি ভিলেজ ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

খুলনা ব্যুরো

দাকোপের পানখালীকে এসডিজি ভিলেজ ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

খুলনার দাকোপ উপজেলার পানখালী গ্রামকে এসডিজি ভিলেজ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী। সোমবার দুপুরে রাজধানীর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের হলরুমে ‘ইনক্লুসিভ গ্রোথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পলিসি প্রোগ্রাম’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।

বিজ্ঞাপন

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) স্থানীয় পর্যায়ে বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে দেশের তিনটি গ্রামকে পাইলট প্রকল্পের আওতায় নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে খুলনার পানখালী ছাড়াও রয়েছে রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার মিটিংগাছড়ি এবং দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার নাফানগর গ্রাম।

ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তিন গ্রামের সঙ্গে যুক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে ‘এসডিজি ভিলেজ পাইলট প্রোগ্রাম’র উদ্বোধন করেন।

এ সময় তিনি বলেন, এসডিজি ভিলেজের পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে তিনটি গ্রামকে পাইলট প্রকল্প হিসেবে উন্নয়ন করা হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে খুলনার পানখালীর মমতাজ বেগম মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রান্ত থেকে জেলা প্রশাসক মিজ হুরে জান্নাত প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

তিনি বলেন, পানখালী গ্রামে যেমন নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তেমনি রয়েছে বিপুল সম্ভাবনাও। টেকসই উন্নয়ন শুধু অবকাঠামো নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এখানকার মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, পরিবেশের সুরক্ষা এবং ভবিষ্যৎকে নিরাপদ ও টেকসই করাও এর অংশ।

জেলা প্রশাসক বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনায় খুলনার সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট সবাই টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গঠনে কাজ করবেন। এ ক্ষেত্রে পেশাদারিত্ব, জবাবদিহি ও সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

পানখালীর স্থানীয় সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কেডিএ) চেয়ারম্যান শফিকুল আলম মনা। তিনি বলেন, দাকোপ দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত একটি অঞ্চল। এর মধ্যে পানখালী আরও পিছিয়ে রয়েছে। গ্রামটিকে এসডিজি ভিলেজ হিসেবে নির্বাচন করায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

পানখালীর অন্যতম বড় সমস্যা হিসেবে নদীভাঙনের কথা তুলে ধরেন কেডিএ চেয়ারম্যান। তার ভাষ্য, গ্রামের তিনটি স্থানে ব্যাপক নদীভাঙন হচ্ছে। ভাঙনের কারণে স্থানীয় মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং অনেক সময় এলাকা প্লাবিত হয়ে পড়ে। নদীভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন বলেও জানান তিনি।

পানখালীর মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে সুন্দরবনের নিবিড় সম্পর্কের কথাও তুলে ধরেন কেডিএ চেয়ারম্যান। স্থানীয় মানুষ সুন্দরবনে কাঠ সংগ্রহ, মধু আহরণসহ বিভিন্ন কাজের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করেন। নিরাপদে সুন্দরবনে যাতায়াতের সুযোগ নিশ্চিত করতে সরকারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।

এ ছাড়া দীর্ঘদিনের দাবি পানখালী সেতু নির্মাণের বিষয়টিও প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন শফিকুল আলম মনা। তিনি বলেন, বিভিন্ন সময়ে স্থানীয় মানুষকে সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। এসডিজি ভিলেজ কর্মসূচির আওতায় গুরুত্বপূর্ণ এ যোগাযোগ অবকাঠামো নির্মাণে উদ্যোগ নেওয়ার প্রত্যাশা জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে খুলনার অংশে জেলা প্রশাসক মিজ হুরে জান্নাত ও কেডিএ চেয়ারম্যান শফিকুল আলম মনা ছাড়াও খুলনার পুলিশ সুপার মো. তাজুল ইসলাম, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান মন্টুসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, কৃষক, গৃহিণী ও শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।

জেডএম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন