খুলনায় আরএফএল কর্মকর্তার লাশ উদ্ধার, সহকর্মী লাপাত্তা

খুলনা ব্যুরো

খুলনায় আরএফএল কর্মকর্তার লাশ উদ্ধার, সহকর্মী লাপাত্তা

খুলনার পাইকগাছায় আরএফএল কোম্পানির এক কর্মকর্তার লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত বিশ্বজিৎ দেউড়ি (২৫) আরএফএলের পাইকগাছা শাখায় সেলস রিপ্রেজেন্টেটিভ (এসআর) হিসেবে ছিলেন। এ ঘটনার পর থেকে তার সহকর্মী ও রুমমেট অন্তর সরকার (২৩) ব্যবহৃত মোটরসাইকেলসহ লাপাত্তা রয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত দুই মাস ধরে ঝালকাঠি সদরের বেতরা গ্রামের হিরালাল দেউড়ির ছেলে বিশ্বজিৎ দেউড়ি এবং মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার লক্ষীপুর ফাঁসিয়াতলা গ্রামের লিটন সরকারের ছেলে অন্তর সরকার পাইকগাছা পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের হাসপাতাল রোড এলাকার রাম প্রসাদ মন্ডলের দোতলা বাড়ির নিচতলার একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে বসবাস করতেন। অন্তর সরকার আরএফএলের সহকারী টেকনিশিয়ান হিসেবে কর্মরত।

সোমবার রাত আনুমানিক ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে তারা দুজন স্থানীয় একটি দোকান থেকে নাশতা করেন। এরপর মঙ্গলবার দুপুর ১টা পর্যন্ত তাদের দুজনের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এতে সন্দেহ হলে তাদের সহকর্মী নয়ন রায় (২৫) খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে ওই বাসায় যান। সেখানে গিয়ে তিনি ঘরের দরজার সামনে রক্ত এবং একটি রক্তমাখা ছুরি পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে পাইকগাছা থানার পুলিশকে খবর দেন।

পাইকগাছা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আমীর হামজা এবং পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) জুলফিকার আলী সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। কক্ষটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ থাকায় পুলিশ তালা ভেঙে ভেতরে ঢোকে। এ সময় মেঝেতে বিশ্বজিৎ দেউড়ির রক্তাক্ত লাশ পড়ে থাকতে দেখা যায়।

পুলিশের ধারণা, পূর্বশত্রুতা বা অভ্যন্তরীণ কোনো বিরোধের জেরে সোমবার রাত ১০টা থেকে মঙ্গলবার দুপুর ১টার মধ্যে বিশ্বজিৎকে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার পর লাশ ঘরের ভেতর রেখে বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে মোটরসাইকেল নিয়ে অন্তর পালিয়ে গেছেন।

পাইকগাছা থানার ওসি মো. গোলাম কিবরিয়া জানান, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনসহ অন্তর সরকারকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।

জেডএম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন