চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় ভ্রাম্যমাণ আদালতে দণ্ডিত পুলিশ সদস্য তৌহিদুল ইসলামকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন আদালত। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বি এম তারিকুজ্জামান আপিল শুনানি শেষে রোববার এই আদেশ প্রদান করেন।
এ আদেশে দীর্ঘ বিতর্কের পর আইনি প্রক্রিয়ায় নির্দোষ প্রমাণিত হলেন ওই পুলিশ সদস্য।
গত ১৬ এপ্রিল আলমডাঙ্গার একটি পেট্রলপাম্পে জ্বালানি তেল সংগ্রহ করতে যান পুলিশ সদস্য তৌহিদুল ইসলাম। জরুরি পরিষেবার গাড়ি হওয়ায় তিনি সিরিয়ালের বাইরে তেল সংগ্রহ করছিলেন। তবে সেখানে উপস্থিত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাকিল মো. ছফিউল্লাহ ‘সিরিয়াল ভাঙার’ অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে তাকে ৫০০ টাকা জরিমানা করেন।
ওই ঘটনার পর চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) জামাল আল নাসের এক বিবৃতিতে জানান, জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত মতেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিকল্প লাইনে তেল নেওয়ার অধিকার রাখে। সেই অধিকার থাকা সত্ত্বেও একজন পুলিশ সদস্যকে দণ্ডিত করা অনভিপ্রেত। পুলিশের পক্ষ থেকে এই দণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল করা হয়।
মূল নথি পর্যালোচনা শেষে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তার আদেশে স্পষ্ট উল্লেখ করেন যে, পুলিশ সদস্য তৌহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার ক্ষেত্রে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসর করা হয়নি। আদালত বলেন: "ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮-এর ৪২৩ ধারা মোতাবেক আপিলকারীর আবেদন মঞ্জুর করা হলো এবং ১৬ এপ্রিলের সেই বিতর্কিত আদেশ বাতিল করে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হলো।"
তবে টেকনিক্যাল কারণে জরিমানার ৫০০ টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়টি এই আদালতের এখতিয়ারভুক্ত নয় বলে জানানো হয়েছে।
এমই
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

