বাগেরহাটের মোংলায় যাত্রীবাহী বাসে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ গাঁজা উদ্ধারের ঘটনায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযানের পর ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের কাছে এসআরবি-৬-এর পক্ষ থেকে ১০০ থেকে ১২০ কেজি গাঁজা উদ্ধারের কথা বলা হলেও পরে বাহিনীটির সদর কোম্পানির পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উদ্ধারের পরিমাণ ৭৫ কেজি উল্লেখ করা হয়েছে। একই ঘটনায় উদ্ধারের পরিমাণে ৪৫ কেজি পর্যন্ত পার্থক্য থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছে।
মঙ্গলবার রাত ১টা ২০ মিনিটের দিকে মোংলা উপজেলার চাঁদপাই ইউনিয়নের ব্রাহ্মণমাঠ এলাকায় মোংলা-মোড়েলগঞ্জ সড়কে অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তারের কথা জানায় এসআরবি-৬ সদর কোম্পানি। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, একটি যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি চালিয়ে ৭৫ কেজি গাঁজা উদ্ধার এবং চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই সঙ্গে বাসটিও জব্দ করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—মো. ইব্রাহিম (২৩), পারভেজ আহমেদ (২৫), আমিনুর রহমান (৩২) ও নূর আমিন (২৮)। এসআরবি-৬-এর বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ইব্রাহিম মোড়েলগঞ্জের ফুলহাতা এলাকার বাসিন্দা এবং অপর তিনজন রংপুরের বাসিন্দা।
তবে অভিযানের পর সাংবাদিকদের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে লিখিত বিজ্ঞপ্তির তথ্যের মিল পাওয়া যাচ্ছে না। একাধিক গণমাধ্যমে এসআরবি-৬-এর উপপরিচালক ও মিডিয়া কর্মকর্তার বক্তব্য উদ্ধৃত করে ১২০ কেজি গাঁজা উদ্ধারের খবর প্রকাশিত হয়েছে। এসব প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাসটির পেছনের অংশের চেসিসে ছয়টি কার্টনে গাঁজা রাখা ছিল।
অন্যদিকে, একই দিনে প্রকাশিত এসআরবি-৬-এর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিভিত্তিক প্রতিবেদনে উদ্ধারের পরিমাণ ৭৫ কেজি বলা হয়েছে। কয়েকটি গণমাধ্যমও সেই তথ্য অনুসরণ করে ৭৫ কেজি গাঁজা উদ্ধারের খবর প্রকাশ করেছে।
এখানেই প্রশ্ন—একই অভিযান, একই স্থান ও একই সময়ে উদ্ধার হওয়া গাঁজার পরিমাণ নিয়ে কেন দুই ধরনের তথ্য দেওয়া হলো? উদ্ধার করা গাঁজা যদি প্রথমে ওজন করে ১২০ কেজি পাওয়া যায়, তাহলে পরবর্তী বিজ্ঞপ্তিতে তা ৭৫ কেজি হলো কীভাবে? আবার লিখিত বিজ্ঞপ্তির ৭৫ কেজিই যদি সঠিক হয়, তাহলে অভিযানের পর সাংবাদিকদের কাছে ১০০ থেকে ১২০ কেজির তথ্য কীভাবে এল—তা স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, কারণ উদ্ধার হওয়া মাদকের পরিমাণ মামলার নথি, জব্দ তালিকা ও পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ফলে প্রাথমিক বক্তব্য ও লিখিত বিজ্ঞপ্তির মধ্যে এমন পার্থক্য থাকলে স্বাভাবিকভাবেই জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, মাদকবিরোধী অভিযান নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ। তবে উদ্ধার করা মাদকের পরিমাণের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে কর্তৃপক্ষের তথ্য এক ও অভিন্ন হওয়া উচিত। তা না হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয় এবং গণমাধ্যমেও ভিন্ন ভিন্ন তথ্য প্রকাশের সুযোগ তৈরি হয়।
এসআরবি-৬ জানিয়েছে, মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে এবং উদ্ধার করা গাঁজা ও জব্দ বাসসহ তাদের মোংলা থানায় হস্তান্তরের কথা জানানো হয়েছে।
এদিকে, প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনের তথ্যেও দেখা যাচ্ছে, কোথাও চারজন এবং কোথাও তিনজন আটকের কথা বলা হয়েছে; একইভাবে গাঁজার পরিমাণেও ৭৫ ও ১২০ কেজির তথ্য এসেছে।
তাই ঘটনার প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট করতে জব্দ তালিকা, মামলার এজাহার ও আনুষ্ঠানিকভাবে ওজন করা গাঁজার পরিমাণ—এই তিনটি তথ্য প্রকাশ্যে এলে বিভ্রান্তির অবসান হতে পারে। একই সঙ্গে প্রাথমিকভাবে সাংবাদিকদের কাছে দেওয়া তথ্য ও পরবর্তী সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মধ্যে পার্থক্যের কারণও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্পষ্ট ব্যাখ্যার দাবি রাখে।
এআরবি
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

