জলবায়ু ক্ষতির হিসাব থেকে বাদ যাচ্ছে মানুষের মানসিক ক্ষত

খুলনা ব্যুরো

জলবায়ু ক্ষতির হিসাব থেকে বাদ যাচ্ছে মানুষের মানসিক ক্ষত

জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি শুধু ঘরবাড়ি, রাস্তা, বাঁধ কিংবা ফসলের ক্ষয়ক্ষতিতে সীমাবদ্ধ নয়। মানুষের মৃত্যু, শারীরিক অক্ষমতা, মানসিক স্বাস্থ্যঝুঁকি, পুষ্টিহীনতা, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও পরিচয় হারানো, পেশাগত সংকট এবং সামাজিক বন্ধন ভেঙে যাওয়াও জলবায়ু পরিবর্তনের বড় ক্ষতি। এসব ক্ষতি অর্থ দিয়ে পুরোপুরি মূল্যায়ন বা পুনরুদ্ধার করা সম্ভব নয়। তাই স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার বাজেট ও পরিকল্পনায় ‘নন-ইকোনমিক লস’ অন্তর্ভুক্ত করার তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিজ্ঞাপন

খুলনায় অনুষ্ঠিত ‘ফলাফল থেকে পদক্ষেপে: অ-অর্থনৈতিক ক্ষতি ও ক্ষয়ক্ষতি পূরণের পথ এবং নীতি সমন্বয় জোরদারকরণ’ বিষয়ক এক সভায় বক্তারা এমন তাগিদ দেন। বেসরকারি সংস্থা জাগ্রত যুব সংঘ-জেজেএস’র উদ্যোগে মঙ্গলবার(৮ সেপ্টেম্বর) সিএসএস আভা সেন্টারে ‘লস অ্যান্ড ড্যামেজ স্পেশাল ইনিশিয়েটিভ’ প্রকল্পের উদ্যোগে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে মুখ্য আলোচক ছিলেন, খুলনার অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার(সার্বিক) আবু সায়েদ মো. মঞ্জুর আলম।

জেজেএস’র নির্বাহী পরিচালক এটিএম জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে এসময় আলোচনা করেন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. সালমা বেগম, উন্নয়ন অধ্যয়ন ডিসিপ্লিনের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. হাসান হাওলাদার, কুয়েটের অধ্যাপক ড. আনজুম তাবাসসুম, বেলার সমন্বয়কারী মাহফুজুর রহমান মুকুল, আইআরভি’র সমন্বয়কারী কাজী জাভেদ খালিদ পাশা, খুলনা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক সুরাইয়া সিদ্দিকা।

এসময় উপকূলীয় অঞ্চল থেকে খুলনা শহরে এসে বস্তিতে বসবাসকারীদের মধ্যে বক্তৃতা করেন, ময়না আক্তার, আয়শা আক্তার মেঘলা, লাবনী আক্তার, আছিয়া সুলতানা, অ্যাডাম ফাউন্ডেশনের মো. জিল্লুর রহমান প্রমুখ।

আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পায় জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের এমন ক্ষয়ক্ষতি, যার আর্থিক মূল্য নির্ধারণ করা কঠিন। বিশেষ করে মৃত্যু, শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি, বসতভিটা ও আবাসস্থল হারানো, পেশাগত পরিচয়ের সংকট, সামাজিক ও পারিবারিক বন্ধন দুর্বল হয়ে যাওয়া এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হারানোর মতো বিষয়গুলো।

বক্তারা স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় নন-ইকোনমিক লসকে গুরুত্ব দিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনের বাজেট ও পরিকল্পনায় বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।

আলোচনায় আরও উঠে আসে, বাস্তুচ্যুতির কারণে শিশুদের শিক্ষা ব্যাহত হচ্ছে। দারিদ্র্যের চাপে শিশুশ্রম ও বাল্যবিয়ের ঝুঁকি বাড়ছে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যঝুঁকি, রোগব্যাধি এবং শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতিও ঘটছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন