আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার দিঘীরপাড় গ্রামে মোশাররফ হোসেন (৫২) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। বুধবার মোশারফের বাড়িতে ঢুকে তাকে কুপিয়ে হত্যা করে প্রতিপক্ষরা।
নিহত মোশাররফ হোসেন দিঘীরপাড় গ্রামের শমসের মোল্লার ছেলে। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন একই পরিবারের আরো ৬ জন। আহতরা হলেন, আনিছুর রহমান, মতিয়ার রহমান, মিজানুর রহমান, মোহাম্মদ আলী, জাহাঙ্গীর হোসেন ও নাহিদ। আহতদের উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য আহম্মদ আলী জানান, দিঘীরপাড় গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে আ’লীগ নেতা শহীদ শিকদার ও আবু সাঈদের দুটি সামাজিক দলের মধ্যে বিরোধ চলছিল। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর উভয় গ্রুপের সদস্যরা স্থানীয় বিএনপির নেতাদের গ্রুপে যোগ দেন। এতে উভয় গ্রুপের মাঝে নতুন করে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ দেখা দেয়।
সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল কুদ্দুস জানান, পুরানো বিরোধের জের ধরে গত ২৮ এপ্রিল একদফা মারামারি হয় এবং রেজওয়ান বিশ্বাসের সমর্থকদের বাড়িঘরে একপক্ষ হামলা চালায়। ঘটনার দিন আলিমুদ্দীনের সমর্থকরা পিটিয়ে ও কুপিয়ে নারীসহ ৫ জনকে আহত করে।
সূত্র জানায়, বুধবার দুপুরে এলাকায় পুলিশ আসার খবরে আলিমুদ্দীনের সমর্থকরা নিরাপদ স্থানে চলে যায়। যে কারণে সুযোগ বুঝে আহাম্মদ আলীর সমর্থকরা প্রতিপক্ষ আলিমুদ্দীন গ্রুপের সদস্য মোশাররফ হোসেন মোল্লার বাড়িতে ঢুকে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে ৬ জনকে গুরুতর জখম করে। মোশাররফ হোসেন চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে মারা যায়।
হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সভাপতি এ্যাডভোকেট এমএ মজিদ দিঘীরপাড় গ্রাম পরির্দশন করেছেন।
ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইমরান জাকারিয়া জানিয়েছেন, সামাজিক দ্বন্দ্বের কারণে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে অভিযান চলছে বলে তিনি জানান।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

