বাগেরহাটের মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বর্তমানে ৫০ শয্যার হলেও বাস্তবিক চাহিদার তুলনায় তা একেবারেই অপ্রতুল। রাসায়নিক ব্যবস্থাপনা, ভারী যন্ত্রপাতি এবং অগ্নিকাণ্ডজনিত দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে কাজ করলেও নেই আইসিইউ। নেই ডায়ালাইসিস ইউনিট, বার্ন ইউনিট কিংবা ব্লাড ব্যাংকের মতো অত্যাবশ্যকীয় সেবা। এমনকি শিশুদের জন্য নেই বিশেষ পরিচর্যা কেন্দ্র (এসএনসিইউ)। আর জরুরি অপারেশন থিয়েটারও রয়েছে নামমাত্র।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, মোংলার হাজী বাহার উদ্দিন সড়কের রিকশাচালক মো. ইলিয়াস হোসেন বলেন, হাসপাতালে গিয়েছিলাম স্ত্রীকে নিয়ে। কিন্তু ডাক্তার পাই না, ওষুধ পাই না, আবার টেস্ট করতে বলে বাইরে যেতে। এত কষ্ট করে রোগী নিয়ে এসে চিকিৎসা না পেয়ে বাড়ি ফিরে যেতে হয়।
হাসপাতালের সামনে ফার্মাসিস্ট মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এই এলাকায় দুর্ঘটনা হরহামেশা ঘটে। কিন্তু আইসিইউ নেই, অপারেশন থিয়েটারটা নামকাওয়াস্তে। রোগীরা বাধ্য হয়ে খুলনা, গোপালগঞ্জ অথবা ঢাকায় রেফার হচ্ছেন। এতে সময় ও খরচ—দুটোই বেড়ে যাচ্ছে।
এ ব্যাপারে স্থানীয় সমাজসেবক ও এলাকাবাসী মো. আবু বকর সিদ্দিক বলেন, একটা আধুনিক হাসপাতাল মোংলার মানুষের প্রাপ্য। এই বন্দরনগরীতে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটে, মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবার চরম ঘাটতি রয়েছে। অথচ এখানে নেই ডায়ালাইসিস ইউনিট, বার্ন ইউনিট, ব্লাড ব্যাংক কিংবা শিশুদের জন্য এসএনসিইউ। এটা দুঃখজনক।
স্থানীয়দের এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি মোংলাবাসীর পক্ষ থেকে একটি লিখিত আবেদন স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নুরজাহান বেগমের কাছে হস্তান্তর করা হয়। সুপ্রিম কোর্টের সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান নিজ হাতে আবেদনটি পেশ করেন। স্বাস্থ্য উপদেষ্টা তা আন্তরিকতার সঙ্গে গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন বলে জানা গেছে।
এদিকে হাসপাতাল ভবনের করুণ অবস্থাও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. শাহিন বলেন, হাসপাতাল ভবনটি এখন নিজেই ধসে পড়ার মতো অবস্থায় রয়েছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটতে পারে। বারবার দপ্তরে আবেদন করেও সাড়া মেলেনি। জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার ও আধুনিকায়ন প্রয়োজন।
এ বিষয়ে পৌর জামায়াতের সেক্রেটারি, সাবেক প্যানেল মেয়র ও অ্যাডভোকেট কমিশনার মো. হোসেন বলেন, প্রতিদিন শতাধিক রোগী হাসপাতালে আসে, কিন্তু নেই পর্যাপ্ত চিকিৎসক, যন্ত্রপাতি ও ওষুধ। বিশেষ করে মা ও শিশুর জন্য এই হাসপাতাল একেবারেই অনুপযুক্ত। এখনই ব্যবস্থা না নিলে ভয়াবহ বিপর্যয় অনিবার্য।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

