ইবির সমাবর্তন ২ ফেব্রুয়ারি: সভাপতিত্ব করবেন রাষ্ট্রপতি

ইবির সমাবর্তন ২ ফেব্রুয়ারি: সভাপতিত্ব করবেন রাষ্ট্রপতি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) পঞ্চম সমাবর্তন আগামী বছরের ২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। সমাবর্তনে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সভাপতিত্ব করবেন বলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

সমাবর্তন উপলক্ষে ৫ থেকে ২০ নভেম্বর পর্যন্ত নিবন্ধন কার্যক্রম চলবে। কার্যক্রম সফল করতে ২২টি উপকমিটিও গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

রেজিস্ট্রেশন উপকমিটি সূত্রে জানা যায়, সমাবর্তনে অংশ নিতে পারবেন ২০১২-১৩ থেকে ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) এবং ২০১৫-১৬ থেকে ২০২৩-২০২৪ শিক্ষাবর্ষের স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা শিক্ষার্থীরা।

এর আগে সমাবর্তনকেন্দ্রিক নিবন্ধন উপকমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. ফারুকুজ্জামান খান গণমাধ্যমে জানান, চলতি বছরের ৫ থেকে ২০ নভেম্বর পর্যন্ত নিবন্ধনের প্রাথমিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সমাবর্তন ফি ৫০০০ টাকা এবং সনদ ফি ১০০০ টাকা প্রাথমিকভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে। তাদের ভাষ্য, ‘পত্রিকায় বিজ্ঞাপন না দেওয়া পর্যন্ত ফি চূড়ান্ত বলা যাবে না। বরং পরিস্থিতি বিবেচনায় এটি শিথিলযোগ্য।’

প্রাথমিক ফি নির্ধারণের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মাঝে চরম অসরম্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। সদ্য স্নাতক সম্পন্ন করা ও বেকার শিক্ষার্থীদের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনা না করে এমন ফি নির্ধারণের তীব্র প্রতিবাদ জানান তারা।

সমালোচনা করে প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা বলেন, অনার্স ও মাস্টার্সের কাগজপত্র তুলতে আগে থেকেই ৫ হাজার টাকা খরচ করার পর আবার সমাবর্তনে অংশ নিতে ৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এদিকে সম্প্রতি ফি পুনর্বিবেচনার দাবি তুলেছে বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন। সমাবর্তন ফি সাড়ে ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার টাকার মধ্যে রাখা যৌক্তিক বলে মনে করছেন তারা।

এ বিষয়ে রেজিস্ট্রেশন উপকমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. ফারুকুজ্জামান খান বলেন, বাজেট কমিটির মিটিং শেষে বলা যাবে মোট কত টাকা লাগবে। সম্ভবত সার্টিফিকেটের ফি কমানো হবে। এই বিশাল কর্মযজ্ঞে ইউজিসি থেকে ১০-১২ লাখ টাকার বেশি না পাওয়ায় শিক্ষার্থী ও স্পনসরের ওপর বেশি নির্ভর করতে হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে কাঙ্ক্ষিত স্পনসরও পাওয়া যায় না। সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে একটি খসড়া খরচ নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ফি কমে গেলে অনুষ্ঠানের গুণগত মানও কমে যেতে পারে। অনুষ্ঠানটি বৃহৎ পরিসরে হবে, যেখানে প্রায় ১০,০০০ শিক্ষার্থী অংশ নেবেন। তাই বিশ্ববিদ্যালয় সাধ্যমতো ফি কম রাখার চেষ্টা করবে। এ ছাড়া ক্যাম্পাসের বর্তমান শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন ফি সম্ভবত সাড়ে পাঁচ হাজার টাকার মতো লেগে যায়; এই বিষয়ে কিছু করা যায় কি না, আমি কথা বলে দেখব। সামনে বাজেট কমিটির মিটিং হলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে।

সমাবর্তনের বাজেট ও আনুমানিক খরচ নির্ধারণ নিয়ে জানতে চাইলে অর্থ উপকমিটির আহ্বায়ক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ মো. ইদ্রিস আলী জানান, সমাবর্তনে ঠিক কত অর্থ ব্যয় হবে, তার পূর্ণাঙ্গ হিসাব আমরা আপাতত দিতে পারছি না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, প্রস্তুতি প্রায় শেষের দিকে। উপকমিটিগুলোকে কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রপতি উপস্থিত থেকে সমাবর্তনে সভাপতিত্ব করবেন বলে মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে।

এমই

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন