কতো চিৎকার করেছি, কেউ আসেনি ধরেনি: যুবদল নেতা মাহবুবের স্ত্রী

কতো চিৎকার করেছি, কেউ আসেনি ধরেনি: যুবদল নেতা মাহবুবের স্ত্রী

খুলনায় দৌলতপুর থানার মহেশ্বরপাশা পশ্চিম পাড়ায় নিজ বাড়ির শুক্রবার দুপুর দেড়টার দিকে গুলি করে হত্যা করা হয় যুবদল নেতা মাহবুবুর রহমান মোল্লাকে। তিনি থানা যুবদলের সাবেক সহ সভাপতি। একটি মোটরসাইকেলে তিনজন এসে তাকে গুলি করে হত্যার পর মৃত্যু নিশ্চিত করতে কেটে দেওয়া হয় পায়ের রগ। এদিন এশার নামাজের পর মহেশ্বরপাশা পশ্চিম পাড়া ঈদগাহে নামাজে জানাজা শেষে তার লাশ দাফন করা হয়।

বিজ্ঞাপন

শনিবার সকালে সরেজমিনে মাহবুবের বাড়িতে দেখা গেছে শোকাহত পুরো পরিবার। স্বামী হারানোর শোকে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন স্ত্রী এরিনা। শুক্রবার দুপুরে দুই মেয়েকে খেতে দিয়ে শুয়েছিলেন। সবাই নামাজ পড়তে গেছে। এ সময় প্রতিবেশী সলেমান এসে বালতি চায়। বলে মাহবুব ভাইয়া গাড়ি ধোবে। নামাজ না পড়ে এসব কাজ করায় তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, তোমার ভাইকে বাসায় আসতে বলো। অল্প সময় পরেই বাজি ফোটানোর মতো শব্দ পান এবং পরপরই সলেমান রাস্তা থেকে বাসায় ছুটে এসে জানায় ভাইকে কারা গুলি করেছে। আমি ছুটে যেয়ে দেখি ও রাস্তায় পড়ে আছে। কতো চিৎকার করেছি। কেউ আসেনি, কেউ ধরেনি।

এরিনা বলেন, কয়দিন ধরেই ফোনে তাকে হুমকি দিচ্ছিল। ও বলতো আমি কারো ক্ষতি করিনি। আমাকে মারবে কেন? হত্যায় কারা জড়িত বলতে পারবো না, কারণ আমাকে কারো নাম বলেনি।

মাহবুবকে গাড়ি ধোয়ায় সহযোগিতা করছিলেন স্থানীয় ভ্যানচালক সলেমান। তিনি আমার দেশকে বলেন, ভাইয়ার কথা মতো বাড়ি থেকে বালতি নিয়ে গাড়ির পেছনের নিচের দিকে ধুচ্ছিলাম। ভাই ছিলেন সামনে। এ সময় এক মোটরসাইকেলে তিনজন লোক আসে। একজন হেলমেট পরা। তারা নেমেই ফায়ার করলে ভাই সামনের দিকে দৌড় দেয়। কিন্ত বেশি দূর যেতে পারেনি। রাস্তায় পড়ে যায়। গুলির শব্দ শুনে আমি মাথা তুললে ওরা আমাকে দেখতে পায়। তখন আমার দিকে তাক করলে ছুটে বাড়ির ভেতর ঢুকে যাই। আমাকে ছোড়া গুলি বাড়ির দেয়ালে লাগে। আমি তাদেরকে চিনতে পারিনি।

মাহবুবের শ্বশুর আজাদ বেগ বাবু জানান, কারা হত্যা করেছে আমরা বলতে পারবো না। তবে সে বিএনপির রাজনীতি করতো। দৌলতপুর বিএনপি অফিস ভাংচুর মামলার বাদী। যে মামলায় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ ও আওয়ামী সন্ত্রাসীরা আসামি ছিল। ১৮ ফেব্রুয়ারি কুয়েটে ছাত্রদলের সাথে শিবিরের একটা বড় গ্যাঞ্জাম হয়। এলাকার মানুষ হিসেবে মাহবুব ছাত্রদলের পক্ষে ক্যাম্পাসে গেছিলো। যে কারণে অনেকের রাগ ছিল।

খুন হওয়ার ৫/৭ দিন আগে থেকে মাহবুবের মোবাইলে হুমকি আসতো। তাকে গুলি করে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দিতো জানালেন ছোটো চাচা আব্দুর রহিম মোল্লা। এ বিষয়ে থানায় জিডি করার চিন্তা করছিলেন তারা। তার আগেই শেষ হয়ে যায় সবকিছু।

এ দিকে মাহবুবুর রহমান মোল্লা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দৌলতপুর থানায় মামলা হয়েছে। শনিবার দুপুরে নিহতের পিতা আব্দুল করিম মোল্লা এ মামলা করেন। মামলায় কারো নাম উল্লেখ করা হয়নি।

দেলৗতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর আতাহার আলী আমার দেশকে বলেন, শনিবার দুপুর দেড়টার দিকে থানায় মামলা লিপিবদ্ধ হয়েছে। মামলায় কারো নাম উল্লেখ করা হয়নি। সন্ধেহভাজন হিসেবে কারো নাম নেই। কিলিং মিশনে তিনজন অংশ নিয়েছিলেন এবং মাত্র ৩/৪ মিনিট সময়ের মধ্যে তারা হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করেছে। আমাদের হাতে সিসিটিভি ফুটেজ এসেছে। যা বিশ্লেষণ করে আমরা ধারণা পেয়েছি কোন গ্রুপ এ কাজে জড়িত। আশা করছি দ্রুত তাদেরকে গ্রেপ্তার করা যাবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন