এখনো মধুমাস শুরু হয়নি, চলছে বৈশাখের দ্বিতীয় সপ্তাহ। এর মধ্যেই দেশের অন্যতম আম উৎপাদনকারী জেলা সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলায় শুরু হয়েছে আগাম আম ভাঙা ও বাজারজাতের প্রবণতা। অভিযোগ উঠেছে, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী আটির আমের আড়ালে গোবিন্দভোগ ও হিমসাগর জাতের অপরিপক্ব আম দেশের বিভিন্ন শহরে পাঠাচ্ছেন।
গোবিন্দভোগ আম বাংলাদেশের উৎকৃষ্ট ও জনপ্রিয় জাতগুলোর একটি। সুগন্ধি, রসালো ও আঁশবিহীন এই আমের চাহিদা দেশজুড়ে। সাতক্ষীরার আমেরও রয়েছে আলাদা সুনাম, যা দেশের বিভিন্ন অঞ্চল ছাড়িয়ে বিদেশেও বিস্তৃত। তবে সেই সুনামকে পুঁজি করেই আগাম আম বাজারজাতের এই প্রবণতা শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাজারে কাঁচা আমের চাহিদাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে আটির আম সংগ্রহ ও সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী জানান, ২০ ক্যারেট আম ঢাকায় পাঠালে তার মধ্যে প্রায় ১৫ ক্যারেট থাকে আটির আম, আর বাকি ৫ ক্যারেট গোবিন্দভোগ ও হিমসাগর। ক্যারেটের ভেতরে পাতা ও কাগজ দিয়ে এমনভাবে প্যাকেট করা হয়, বাইরে থেকে বোঝার উপায় থাকে না।
তিনি আরও বলেন, প্রশাসনের নজর এড়াতে আমগুলো বিভিন্ন ভাগে ভাগ করে আলাদা পরিবহনে পাঠানো হচ্ছে। যদিও মাঝে মধ্যে পথে তল্লাশিতে এসব আম জব্দ করে নষ্ট করে দেওয়া হচ্ছে।
ঢাকায় বসবাসরত দেবহাটার পারুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা শামীম হোসেন সুনন বলেন, বাজারে ‘সাতক্ষীরার গোবিন্দভোগ’ নামে ২৫০-৩০০ টাকা কেজি আম বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু সময়ের আগে পাড়া এসব আমের স্বাদ ভালো না। এতে ভোক্তারা প্রতারিত হচ্ছেন, একই সঙ্গে আমাদের জেলার আমের সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
এ বিষয়ে দেবহাটা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শওকত ওসমান বলেন, সাতক্ষীরার আম পাকার উপযুক্ত সময় এখনো আসেনি। সাধারণত ১৫ মের পর থেকে আম পরিপক্ব হতে শুরু করে। আগাম আম পাড়ার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সচেতন মহলের মতে, দ্রুত প্রশাসনিক নজরদারি জোরদার না হলে আগাম আম বাজারজাতের এই প্রবণতা সাতক্ষীরার ঐতিহ্যবাহী আম শিল্পের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

