কালীগঞ্জে আঙুর চাষে কলেজছাত্রের সাফল্য

টিপু সুলতান, কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ)

কালীগঞ্জে আঙুর চাষে কলেজছাত্রের সাফল্য
কালীগঞ্জে আঙুরের পরিচর্যা করছেন চাষি রাকিব হাছান। ছবি: আমার দেশ

ঝিনাইদহ কালীগঞ্জে এক কলেজছাত্র রাকিব হাছান আঙুর চাষে অসাধারণ সাফল্য পেয়েছেন। তিনি কোটচাঁদপুর সরকারি কলেজের ইতিহাসে অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্র। বাগানটি দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছেন অনেক মানুষ। উদ্যোক্তা রাকিব হাছান লেখাপড়ার পাশাপাশি ২০২৪ সালের মে মাসে ১০ কাঠা জমিতে বাইকুনুর ও ব্ল্যাক ম্যাজিক জাতের আঙুরের চারা রোপণ করেন। চারা রোপণের এক বছরের মাথায় ২০২৫ সালের মে মাসে তিনি ২ লাখ টাকার আঙুর বিক্রি করেন। এতে খরচ বাদে তার ১ লাখ টাকা লাভ থাকে।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘আমার কোনো প্রশিক্ষণ বা পূর্ব অভিজ্ঞতা ছিল না, ইন্টারনেট আর নিজের প্রচেষ্টাই ছিল তার ভরসা। এখন তিনি আঙুর উৎপাদনের পাশাপাশি চারা তৈরি করে বিক্রি শুরু করেছেন। এ বছর তার বাগানের প্রতিটি গাছেই ফল এসেছে। আঙুরের আকৃতি ও রং দুটোই আকর্ষণীয় আর স্বাদে বেশ মিষ্টি। রাকিব হাছান প্রায় ৪৬ হাজার টাকা দিয়ে ১২০টি আঙুরের চারা কেনেন। পরবর্তীতে ১০ কাঠা জমিতে মাচা তৈরি, সেচ, সার-কীটনাশক ও পরিচর্যা বাবদ আরো ৬০ হাজার টাকা ব্যয় করেন। ফলে ১০ শতক জমিতে প্রায় ১ লাখ টাকা ব্যয় হয়। বাইকুনুর জাতের মিষ্টি আঙুরের চাষ করে সফল হয়েছেন তিনি। বাইকুনুর রাশিয়ার উন্নত জাতের একটি উচ্চফলনশীল আঙুর। দেশের মাটিতে বিদেশি আঙুরের চারা রোপণের প্রথম বছরের মাথায় তিনি লাভ পেয়েছিলেন ১ লাখ টাকা। চলতি বছর সেই বাগান থেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকার আঙুর ফল বিক্রি করেছেন। তিনি ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামের আব্দুর রবের ছেলে। এদিকে চলতি বছর সেচ, সার ও পরিচর্যা বাবদ রাকিবের ১৫ হাজার টাকা খরচ ছাড়া অতিরিক্ত খরচ হয়নি। এ বছর তিনি বাগান থেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকার আঙুর বিক্রি করেছেন।

কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহাবুব আলম রনি বলেন, কয়েক বছর ধরে উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়ন ও পৌরসভা এলাকার মধ্যে বেশ কিছু চাষি আঙুরের চাষ করছেন। আমরা তাদের উৎসাহ ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছি। কিন্তু নিজের জায়গা না থাকলেও থেমে থাকেননি কৃষি উদ্যোক্তাা কলেজছাত্র রাকিব হাছান। তার এমন উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন