ঝিনাইদহে ছয় লেন করিডোর প্রকল্পের কাজে কচ্ছপগতি

ঝিনাইদহে ছয় লেন করিডোর প্রকল্পের কাজে কচ্ছপগতি

জমি অধিগ্রহণে দীর্ঘসূত্রতার কারণে ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পে নির্মাণকাজ কচ্ছপ গতিতে চলছে। একদিকে প্রকল্পের বর্ধিত মেয়াদ শেষ হতে চলেছে, অন্যদিকে কাজে ধীরগতির কারণে মহাসড়কে জনভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। ইতোমধ্যে প্রকল্পের কাজে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছে বিশ্বব্যাংক।

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্প বাস্তবায়নে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের ভূমি অধিগ্রহণ শাখা ইতোমধ্যে কালীগঞ্জ এলাকার ৪৫ শতাংশ এবং ঝিনাইদহ সদর এলাকায় প্রায় ৫০ শতাংশ জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন করেছে। জেলা প্রশাসন অধিগ্রহণকৃত জমি ওয়েস্টার্ন ইকোনমিক করিডোর (উইকেয়ার) প্রকল্প কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে দিয়েছে।

জানা গেছে, জমি অধিগ্রহণের সঙ্গে সরকারের ছয়টি বিভাগ জড়িত ছিল। এই ছয়টি বিভাগের সমন্বয়হীনতার কারণে মূলত জরিপ ও পরিদর্শন রিপোর্ট তৈরিতে দেরি হয়েছে। ফলে জমি অধিগ্রহণে ধীরগতির সৃষ্টি হয়। ২০২০ সালের ২৪ নভেম্বরে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ একনেকের কার্যনির্বাহী কমিটির এক সভায় ওয়েস্টার্ন ইকোনমিক করিডোর (উইকেয়ার) ফেজ-১ এর আওতায় ছয় লেনের এই প্রকল্পটি অনুমোদিত হয়। তখন প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছিল ৪ হাজার ১৮৭ কোটি টাকা। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর কর্তৃক প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করার কথা ছিল। যশোর ও ঝিনাইদহ মিলিয়ে লট ১,২,৩ এর আওতায় প্রায় মোট ৩০৪ একর জমি অধিগ্রহণ করার পরিকল্পনা গৃহীত হয়। যার মধ্যে যশোর অংশে ৯০ একর এবং ঝিনাইদহ অংশে ২১৪ একর।

সড়ক ও জনপথ কর্তৃক ২০২৪ সালের জুন মাসে পরিকল্পনা কমিশনে প্রেরিত সর্বশেষ সংশোধনী প্রস্তাবে সেই ব্যয় ২ হাজার ৯১৩ কোটি টাকা বেড়ে হয়েছে ৭ হাজার ১০০ কোটি টাকা। জমি অধিগ্রহণের বাইরে পুনর্বাসন ব্যয় ১০৪ কোটি টাকা ও পরামর্শক ব্যয় ৩৭ কোটি টাকা বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করা হয়েছিল প্রস্তাবিত প্রকল্পে। ফলে সর্বশেষ সওজ প্রস্তাবিত এই প্রকল্পে প্রতি কিলোমিটারে ছয় লেনের সড়ক নির্মাণ ব্যয় দাঁড়িয়েছে ১৪৬ কোটি টাকার ওপরে। ঝিনাইদহের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সুবীর কুমার দাশ জানিয়েছেন, তিন সপ্তাহের মধ্যে জমি অধিগ্রহণের কাজ শতকরা ৬০ ভাগ ছাড়িয়ে যাবে। দ্রুততার সঙ্গে অধিগ্রহণের কাজ চলছে।

কাজের ধীরগতির ব্যাপারে জানতে চাইলে ওয়েস্টার্ন ইকোনমিক করিডোর (উইকেয়ার) ফেজ-১ এর ডেপুটি প্রজেক্ট ম্যানেজার-১ নিলন আলী জানান, আগে জমি অধিগ্রহণে ধীরগতির কারণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সময়মতো কাজ শুরু করতে পারেনি। মার্চ ও জুলাই মাসে আমরা বেশ কিছু জমি বুঝে পেয়েছি। ফলে এখন কাজও দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে। ফেজ-২ ও ৩ এর প্রকল্প ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী তুহিন আল মামুন বলেন, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে কোনোভাবেই কাজ শেষ করা সম্ভব নয়।

জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে জমি পাওয়ার পরও ঠিকাদারের গাফিলতির কারণে এখনো পর্যন্ত মাত্র দুই শতাংশ কাজ হয়েছে। কাজের গতি বাড়ানোর জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বারবার তাগিদ ও চিঠি দেওয়া হলেও তারা কোনো তোয়াক্কা করছে না বলে তিনি দাবি করেন। সর্বশেষ কাজের অগ্রগতি না থাকায়, প্রকল্প এলাকা ঘুরে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিশ্বব্যাংকের ডিভিশন ডাইরেক্টর জোঁ পেম ও অপারেশন ম্যানেজার গেইল মার্টিন। তারা গত ১৯ জুলাই ঝিনাইদহ সফর করে সরেজমিনে প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন। ঝিনাইদহ সফরকালে তারা গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, আগামী ডিসেম্বরে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। প্রকল্পের মেয়াদ বর্ধিত হবে কি না তা বিশ্বব্যাংকের পরবর্তী সভায় সিদ্ধান্ত হবে বলে তারা জানিয়েছেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন