হবিগঞ্জে

এনসিপি-বিএনপি পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি, ১৪৪ ধারা জারি

এনসিপি-বিএনপি পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি, ১৪৪ ধারা জারি
ছবি ভিডিও থেকে নেওয়া

হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় এনসিপি-বিএনপির পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনা বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে জেলা প্রশাসন।

বিজ্ঞাপন

বুধবার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসক ড. জি এম সরফরাজ স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

আদেশে উল্লেখ করা হয়, হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) বিক্ষোভ সমাবেশ ও পদযাত্রার কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।

অপরদিকে, হবিগঞ্জ সদর উপজেলা, হবিগঞ্জ পৌর বিএনপি এবং জেলা ছাত্রদল একই সময়ে ও একই স্থানে শান্তি প্রতিষ্ঠার সমাবেশ ও অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। ফলে দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা, সংঘর্ষ, জানমালের ক্ষয়ক্ষতি এবং আইনশৃঙ্খলার অবনতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে জনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ১৪৪ ধারার ক্ষমতাবলে হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তির সমাবেশ, জনসভা, মিছিল, শোভাযাত্রা, অবস্থান কর্মসূচি, পিকেটিং, মাইকিং, স্লোগান এবং উচ্চ শব্দে প্রচারণাসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘ্নিত হতে পারে এমন সব কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের আদেশে আরও বলা হয়েছে, এই নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পদযাত্রায় হামলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন এনসিপির শীর্ষ দুই নেতা সারজিস আলম ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ অন্তত ১০ নেতাকর্মী। এ সময় এনসিপি নেতাকর্মীদের কয়েকটি গাড়িও ভাঙচুর করা হয়।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সন্ধ্যায় শহরের থানার মোড় এলাকায় এ সংঘর্ষ হয়। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। হামলায় আহত হয়েছেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, সারজিস আলম, এনসিপির ভিডিওগ্রাফার ইউসুফ আহমেদ, মিডিয়া সেলের আরাফাত সানি, গাড়িচালক আসলাম হোসাইন, কনটেন্ট ক্রিয়েটর মোশারফ, ভিডিও এডিটর শাহরিয়ারসহ ১০ জন। এনসিপির কনটেন্ট ক্রিয়েটর মোশারফ অভিযোগ করেন, জুলাই পদযাত্রা শেষে ফেরার সময় সার্কিট হাউসের ভেতরে ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা হামলা চালায়। এ সময় ঘটনাস্থলে পুলিশ নীরব ভূমিকা পালন করে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

এনসিপি হবিগঞ্জ জেলা শাখার আহ্বায়ক আবু হেনা মোস্তফা কামাল জানান, সন্ধ্যায় সমাবেশ শেষ করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সারজিস আলমকে নিয়ে সার্কিট হাউসে যাচ্ছিলেন। এ সময় থানার মোড় এলাকায় ছাত্রদল নেতাকর্মীরা হামলা করেন।

তবে হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদল সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদ বলেন, শান্তিপূর্ণ হবিগঞ্জ শহরে কেউ যদি এসে অশালীন বক্তব্য দিয়ে শহরকে অস্থিতিশীল করতে চায়, তাহলে তার দায়ভার তাকেই নিতে হবে।

তিনি আরো বলেন, আজ অপ্রীতিকর একটি ঘটনার খবর শুনেছি। এর সঙ্গে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের কোনো সম্পর্ক নেই। শুনেছি কোনো অশালীন বক্তব্যকে ঘিরে বিক্ষুব্ধ জনতা ধাওয়া দিয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে টাউন হলের সামনে বক্তব্য দেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সারজিস আলম। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বক্তব্যে বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দ্বারা বাংলাদেশের পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। তিনি সমাজের সবচেয়ে খারাপ লোকদের পার্লামেন্টে নিয়ে গেছেন।

এর আগে দুপুরে জেলার আজমিরীগঞ্জে পদযাত্রায় সারজিস আলম বলেন, বিএনপি সরকারের পাঁচ মাসে রাজনৈতিক সহিংসতায় ২১৩ জন নিহত হয়েছে। এর মধ্যে বিএনপির অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষেই ১১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। যারা ক্ষমতা, চাঁদাবাজি ও টাকার দ্বন্দ্বে নিজেদের এত মানুষ হত্যা করতে পারে, তাদের কাছে এ দেশের মানুষ নিরাপদ নয়। তার এমন বক্তব্যের পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়।

পরে পদযাত্রা টিম হবিগঞ্জ জেলা শহরের সার্কিট হাউসের দিকে ফেরার পথে কলাপাতা রেস্টুরেন্টের সামনে হামলার শিকার হয়। হামলার ঘটনার পর এনসিপি নেতারা পাশেই থাকা সোনালী ব্যাংকের একটি শাখায় আশ্রয় নেন। হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার তারেক মাহমুদের নেতৃত্বে কয়েকশ পুলিশ সেই জায়গা ঘেরাও করে রাখে।

এ সময় ছাত্রদল কর্মীরা ‘ভুয়া, ভুয়া’ স্লোগান দেয়। জবাবে এনসিপির নেতাকর্মীরা ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগান দেয়। পুলিশ রাবার বুলেট ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। পরে পুলিশ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সারজিস আলমকে উদ্ধার করে সার্কিট হাউসের ভেতরে নিয়ে যায়।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী স্ট্যাটাস

এ ইস্যুতে গতকাল রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ঘটনার একটি ভিডিও চিত্র যুক্ত করেন। এছাড়া অভিযোগ তুলে তিনি লেখেন, হবিগঞ্জে জুলাই পদযাত্রা কর্মসূচি সফলভাবে শেষ করে আমরা যখন পরবর্তী নির্ধারিত কর্মসূচির উদ্দেশ্যে মৌলভীবাজারের দিকে রওনা হই, সেই সময় হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের একদল সন্ত্রাসী হকিস্টিক, রামদা ও চেনসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমাদের ওপর পরিকল্পিত ও অতর্কিত হামলা চালায়।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—হামলার সময় ঘটনাস্থলে পুলিশ ও র‍্যাব উপস্থিত থাকলেও তারা নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে। হামলাকারীরা আমাদের মিডিয়া টিমের ক্যামেরাসহ মূল্যবান সরঞ্জাম ছিনিয়ে নিয়েছে এবং গাড়িচালক থেকে শুরু করে মিডিয়া টিমের সদস্যদের ওপর নির্বিচারে হামলা চালিয়েছে।

উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমের ওপরও আক্রমণ করা হয়েছে। হবিগঞ্জের স্থানীয় নেতাকর্মীদের ওপর নির্মমভাবে আঘাত করা হয়েছে। কারো হাত ভেঙে দেওয়া হয়েছে, কারো পা ভেঙে দেওয়া হয়েছে। অনেকেই রক্তাক্ত অবস্থায় সড়কে লুটিয়ে পড়েন। আমরা এই ন্যক্কারজনক, বর্বরোচিত ও কাপুরুষোচিত হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে মোকাবিলা করতে যারা অস্ত্র, সন্ত্রাস ও সহিংসতার পথ বেছে নেয়, তারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না।

এই হামলার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক হামলাকারী, তাদের মদতদাতা এবং দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ সংশ্লিষ্টদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে জবাবদিহির মুখোমুখি করার দাবি জানান তিনি।

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি জাহিদুল হকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এছাড়া পুলিশ সুপার তারেক মাহমুদের মোবাইল ফোনে বারবার কল দিয়ে বক্তব্য নেওয়া যায়নি।

এমই

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন