আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে কুষ্টিয়ার আদালত চত্বরে হত্যাচেষ্টা মামলার অন্যতম আসামি মো. রাসেলকে (৩৩) গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। তিনি ওই মামলার এজাহারভুক্ত ৩৩ নম্বর আসামি। রাসেল কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার পাটিকাবাড়ি ইউনিয়নের নলকোলা গ্রামের মুন্সী শামসুল আলমের ছেলে।
মঙ্গলবার দুপুরে মিরপুর উপজেলার পোড়াদহ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় তাকে। আমার দেশকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি ডিবি) মো. মোরাদুল ইসলাম।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের ২২ জুলাই আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি কুমারখালী উপজেলার বানিয়াপাড়া গ্রামের মৃত জামিল হোসেন বাচ্চুর ছেলে ইয়াসির আরাফাত তুষারের দায়ের করা একটি মানহানি মামলার বিবাদী হিসেবে কুষ্টিয়ার আদালতে হাজিরা দিতে আসেন। এ সময় এজাহার নামীয়দের নির্দেশে বাদীকে দিনভর আদালত ভবনে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে আদালত চত্বরেই তার ওপর সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা হামলা করে এবং ধারালো অস্ত্রের আঘাতে রক্তাক্ত জখম করে গুরুতর আহত করে।
এ ঘটনার ছয় বছর পর গত ১০ অক্টোবর আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বাদী হয়ে ভারতে পলাতক ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, আওয়ামী লীগ নেতা মাহবুবুল আলম হানিফ, সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, তৎকালীন পুলিশের মহাপরিদর্শক জাবেদ পাটোয়ারী, কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মেহেদী হাসান ও কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি নাসির উদ্দিনসহ ৪৭ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত আরো ২০-৩০ জনের বিরুদ্ধে কুষ্টিয়া মডেল থানায় একটি হত্যাচেষ্টার অভিযোগ দেন।
এজাহারে আরো বলা হয়েছে, কুষ্টিয়া আদালতের দায়িত্বরত কোর্ট ইন্সপেক্টর মনিরুজ্জামান বাদীকে পুলিশি প্রটেকশন দেওয়ার আশ্বাস দেন এবং যশোর বিমান বন্দরে পৌঁছে দেওয়ার জন্য একটি প্রাইভেট কার ভাড়া করার কথা জানান। তার আশ্বাসের প্রেক্ষিতে বাদী (আমার দেশ সম্পাদক) আদালত এজলাস কক্ষ থেকে বের হয়ে, তার দুই সফর সঙ্গীসহ একটি সাদা রঙের প্রাইভেট কারে বসেন। গাড়িতে বসার ২/১ মিনিটের মধ্যেই ১১ থেকে ৪৭ নং আসামিসহ আরো ১৫/২০ জন অজ্ঞাতনামা আসামি আধুনিক অস্ত্র, রড, লাঠিসোঁটা ও ইট-পাথর দিয়ে উক্ত গাড়ির সব কাচ ভেঙে ফেলে এবং লাঠি ও পাথর দিয়ে আমার দেশ সম্পাদককে উপর্যুপরি আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করে। হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দেওয়া এজাহারটি কুষ্টিয়া মডেল থানায় মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়। শুরুতে মামলাটির তদন্তভার দেওয়া হয় কুষ্টিয়া মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবু তাহেরকে। পরে দেওয়া হয় কুষ্টিয়া মডেল থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক সাইমুম হাসানকে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

