আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

খুমেক হাসপাতালে আউটসোর্সিং কর্মচারী নিয়োগ নিয়ে তুলকালাম

খুলনা ব্যুরো

খুমেক হাসপাতালে আউটসোর্সিং কর্মচারী নিয়োগ নিয়ে তুলকালাম

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আউটসোর্সিং কর্মচারী নিয়োগের ভাইভা পরীক্ষা নিয়ে তুলকালাম কাণ্ড ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পুলিশ ডাকতে বাধ্য হন কর্তৃপক্ষ। তবে টেন্ডারে অংশ নেওয়া এক ঠিকাদারের নিযুক্ত কর্মী ও বহিরাগতদের হুমকির মুখে পরীক্ষা না দিয়ে ফিরে গেছেন অনেকে। এ নিয়ে ঘণ্টাব্যাপী উত্তেজনা ছড়িয়ে জড়ে হাসপাতালে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, কর্তৃপক্ষ তিনটি লটে মোট ১৮৪ জন আউটসোর্সিং কর্মচারী নিয়োগের জন্য দরপত্র আহ্বান করে। এর অংশ হিসেবে গত সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় ৬০ জন কর্মচারীর ভাইভা অনুষ্ঠানের সময় নির্ধারিত ছিল। তিনটি প্রতিষ্ঠান- মাছরাঙা সিকিউরিটি সার্ভিসেস প্রাইভেট লিমিটেড, তাকবীর এন্টারপ্রাইজ ও আল আরাফা সার্ভিসেস প্রাইভেট লিমিটেডের তালিকাভুক্ত কর্মীরা ভাইভা দেওয়ার জন্য উপস্থিত হন। এ সময় হাসপাতালে আগে থেকে কর্মরত কয়েকজন কর্মচারীর সঙ্গে বহিরাগতরা মিলে পরীক্ষা দিতে আসা প্রার্থীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করতে বলে। না হলে পরিণতি খারাপ হবে বলে হুঁশিয়ারি দিলে উভয়পক্ষের মধ্যে তীব্র বাগবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

বিজ্ঞাপন

খবর পেয়ে সোনাডাঙ্গা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। বাধার মুখে অন্তত ১২ পরীক্ষার্থী ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

তাকবীর এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী ইকতিয়ার উদ্দিন হাসপাতালের পরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগে জানান, তার কর্মচারীরা পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য এলে মাছরাঙা সিকিউরিটিজের কর্মীরা মব সৃষ্টি করে এবং অতর্কিত হামলা চালিয়ে লাঞ্ছিত করে। ভয়ে তার কর্মীরা হাসপাতাল ত্যাগ করতে বাধ্য হয়। তিনি পুনরায় পরীক্ষা গ্রহণের দাবি জানিয়ে বলেন, সুষ্ঠু পরিবেশে সবাই ভাইভায় অংশ নেওয়ার সুযোগ না পেলে তিনি আইনের আশ্রয় নেবেন।

পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার জন্য ভুক্তভোগীরা দায়ী করেন আউটডোর শাখার ক্লিনার আসাদুজ্জামান ও কর্মচারী লিজা আক্তারকে। ঘটনা সম্পর্কে জানতে আসাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

তবে লিজা আক্তার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, মন্ত্রণালয় নির্দেশ দিয়েছে যারা আগে থেকে কাজ করছেন নতুন কাজের ক্ষেত্রে তারা অগ্রাধিকার পাবে। হাসপাতালে আমরা প্রায় ৪০০ কর্মী বর্তমানে কর্মরত আছি। আট মাস ধরে কোনো বেতন পাচ্ছি না। আজকে দেখি বটিয়াঘাটা ও রূপসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে কয়েকজন ভাইভা দিতে এসেছে। আমরা তাদের ভাইভায় অংশ না নিতে অনুরোধ করি। কোনো মব বা সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটেনি।

এ বিষয়ে খুমেক হাসপাতালের পরিচালক ডা. কাজী আইনুল ইসলাম জানান, ভাইভার শুরুতে কিছু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। পুরোনো কর্মীরা মনে করেছিলেন তাদের বাদ দিয়ে নতুন কর্মী নেওয়া হবে। এজন্য তারা বাধা দেয়। পরিস্থিতি খারাপ ছিল স্বীকার করে পরিচালক বলেন, আমি পুলিশ ডেকে এনে শান্ত করি। পরে ভাইভা হয়েছে।

সোনাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম জানান, হাসপাতালের অভ্যন্তরে ঝামেলা হচ্ছে জেনে আমি থানা থেকে ফোর্স পাঠাই। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন