কম্বোডিয়া থেকে ৮ যুবককে ফিরে পেতে মায়েদের আহাজারি

কম্বোডিয়া থেকে ৮ যুবককে ফিরে পেতে মায়েদের আহাজারি

কম্বোডিয়ায় বিক্রির অভিযোগে ৮ যুবক সন্তানদের ফিরে পেতে মায়েদের আহাজারিতে ভারী হয়েছে ঝিনাইদহ প্রেসক্লাব এলাকা। রোববার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে হরিণাকুন্ডু উপজেলার শাখারীদহ গ্রামের কুয়েত প্রবাসী আলতাফ হোসেনের স্ত্রী হালিমা খাতুন অভিযোগ করেন, তার ছেলে শাহীনকে থাইল্যান্ডে নিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে কম্বোডিয়ায় বিক্রি করে দেয়া হয়েছে। শহীনের মতো আরো আট যুবককে চক্রটি প্রতিশ্রুত দেশে না পাঠিয়ে কম্বোডিয়া পাঠিয়ে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিয়েছে। উপস্থিত অন্য যুবকদের মায়েরা ওই সময় উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী সন্তানের মায়েরা অভিযোগ করেন, আদম পাচারকারী চক্রের প্রতারণার শিকার হয়ে ঝিনাইদহে বহু পরিবার নিঃস্ব হয়েছে। আর্থিক সংগতি হারিয়ে পরিবারগুলোতে চলছে কষ্ট আর শোকের মাতম। আদম পাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করলেও তারা রয়েছে বহাল তবিয়তে। প্রতারণার মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দিয়ে দালালরা সব কিছু ম্যানেজ করছেন। ফলে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলো কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না।

বিজ্ঞাপন

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে হালিমা খাতুন দাবি করেন, তার ছেলে শাহীন ছাড়াও নাথকুন্ডু গ্রামের আকরাম আলী, একই গ্রামের সিফাতুল্লা, হলিধানী গ্রামের রাহুল আহমেদ, প্রতাপুপর গ্রামের রানা মিয়া, সদর উপজেলার জয়রামপুর গ্রামের সবুজ, ঝিনাইদহ পৌর এলাকার কলাবাগানপাড়ার নাজিব ও বেড়াদি গ্রামের আব্দুল গাফ্‌ফারের কাছ থেকে মাথাপ্রতি সাত লাখ টাকা করে মোট ৫৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এর মধ্যে সবুজ, নাজিব ও আব্দুল গাফ্‌ফার নেপাল বিমানবন্দর থেকে পালিয়ে আসতে সক্ষম হন।

প্রতারণার শিকার নাজিব ও সবুজ নামে দু’যুবক জানান, থাইল্যান্ডে কম্পিউটার অপারেটর পদে চাকরি দেয়ার জন্য ফজলুল করিম ফয়জুলসহ আসামীগণ তাদের প্রলুব্ধ করে। তাদের কথা বিশ্বাস করে ঝিনাইদহ প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে জনপ্রতি সাত লাখ টাকা করে দেন। টাকা নেয়ার পর তাদের থাইল্যান্ডে না পাঠিয়ে কম্বোডিয়ার স্ক্যাম্প কোম্পানিতে ১৮ ঘণ্টা শ্রমের চুক্তিতে বিক্রি করে দেন। ফলে সেখানে তারা দারুণ কষ্টে আছেন। মাসে মাসে কোনো টাকা পাঠাতে পারছেন না। তাই ব্যাংক ঋণ দেয়াও সম্ভব হচ্ছে না। পরিস্থিতি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, বিদেশ থেকে টাকা পাঠানো তো দূরের কথা, এখন তারা জীবন নিয়ে ফিরতে পারবে কিনা তা নিয়ে পরিবার শঙ্কা প্রকাশ করেছে।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারের মধ্যে মারুফা বেগম, রাবেয়া খাতুন, সুফিয়া খাতুন ও নাজিব মাহমুদ উপস্থিত ছিলেন।

এমএস

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন