অনেকে মাটিতে পুঁতে ফেলে

শ্যামনগরে নদীর পাড়ে ফেলে দেওয়া হয় চামড়া

উপজেলা প্রতিনিধি, শ্যামনগর (সাতক্ষীরা)

শ্যামনগরে নদীর পাড়ে ফেলে দেওয়া হয় চামড়া
আমার দেশ

সাতক্ষীরার উপকূলীয় উপজেলা শ্যামনগরে কোরবানির পশুর চামড়া বিক্রি না হওয়ায় বিপাকে পড়েছে সাধারণ মানুষ, মৌসুমি ব্যবসায়ী ও মাদরাসা-এতিমখানা কর্তৃপক্ষ। ক্রেতা সংকট ও বাজার ধসের কারণে অনেকেই বাধ্য হয়ে চামড়া মাটিতে পুঁতে ফেলছেন, আবার কেউ নদীর পাড়ে ফেলে দিচ্ছেন।

শুক্রবার উপজেলার গাবুরা ইউনিয়ন থেকে সংগ্রহ করা বিপুল পরিমাণ কাঁচা চামড়া বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের নীলডুমুর খেয়াঘাট এলাকায় খোলপেটুয়া নদীর তীরে স্তূপাকারে পড়ে থাকতে দেখা যায়। এতে এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি পরিবেশ দূষণের আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় সূত্র জানায়, ঈদের দিন সকাল থেকেই উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ করেন স্থানীয় ব্যবসায়ী, এতিমখানা ও মাদরাসা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তবে দিনভর অপেক্ষা করেও অধিকাংশ চামড়ার কোনো ক্রেতা পাওয়া যায়নি। ফলে সংরক্ষণের উপায় না পেয়ে অনেকে চামড়া ফেলে দিতে বাধ্য হন।

স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার চামড়ার বাজার পরিস্থিতি আরও খারাপ। আড়তদাররা অত্যন্ত কম দামে চামড়া কিনতে চাইলেও পরিবহন ব্যয় ও লবণের উচ্চমূল্যের কারণে তারা লোকসানের আশঙ্কায় চামড়া সংগ্রহে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন।

বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট জামে মসজিদের ইমাম ও বাগে জান্নাত হাফিজিয়া মাদরাসার খতিব হাফেজ রেজাউল করিম বলেন, সারা দিন ও সারা রাত অপেক্ষা করেও কেউ চামড়া নিতে আসেনি। পরে দুর্গন্ধ ছড়ানোর ভয়ে বাধ্য হয়ে কিছু চামড়া মাটিতে পুঁতে ফেলতে হয়েছে।

স্থানীয় মাদরাসা ও এতিমখানা কর্তৃপক্ষ জানান, প্রতি বছর কোরবানির চামড়া বিক্রির অর্থ দিয়ে শিক্ষার্থীদের থাকা-খাওয়া ও শিক্ষা কার্যক্রমের একটি অংশ পরিচালিত হয়। কিন্তু এবার চামড়ার দাম না থাকায় প্রতিষ্ঠানগুলো বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে।

এদিকে সরকার কাঁচা চামড়ার মূল্য নির্ধারণ করলেও মাঠপর্যায়ে তার বাস্তব প্রতিফলন নেই বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের। ব্যবসায়ীদের দাবি, পর্যাপ্ত সংরক্ষণ ব্যবস্থা, লবণ সহায়তা ও স্থানীয় পর্যায়ে আড়ত না থাকায় চামড়ার বাজারে চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামসুদ্দুজ্জামান কনক বলেন, কোরবানির আগে এতিমখানা ও মাদরাসা কর্তৃপক্ষকে চামড়া সংরক্ষণ করে পরে বিক্রির পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এভাবে চামড়া নষ্ট করার কথা ছিল না। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে।

এমএইচ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...