ভারতে তিন বছর কারাভোগ শেষে বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে দেশে ফিরেছেন পাচার হওয়া ছয় বাংলাদেশি যুবক। বৃহস্পতিবার বিকেলে ভারতের পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ তাদের বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
পরে ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাদের বেনাপোল পোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়। সেখান থেকে মানবাধিকার সংস্থা জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার তাদের গ্রহণ করে নিজেদের শেল্টার হোমে রাখে। ফেরত আসা ছয় বাংলাদেশি হলেন-জাহাঙ্গীর আলম (২১), আব্দুল করিম (২৫), মোহাম্মদ আলী (২৬), সাব্বির ইসলাম (২৬), হাফিজুর (২৬) ও আব্দুল সবুর (৪০)। তারা গাজীপুর, বগুড়া, সুনামগঞ্জ ও কক্সবাজার জেলার বাসিন্দা।
বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুর রহমান জানান, ভালো কাজের আশায় দালালের খপ্পরে পড়ে প্রায় চার বছর আগে সাতক্ষীরা ও সিলেট সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেন ওই ছয় যুবক। পরে তারা জম্মু-কাশ্মীরে গিয়ে শ্রমিক হিসেবে কাজ শুরু করেন।
সেখানে অবস্থানকালে ভারতীয় পুলিশের হাতে আটক হন তারা। পরে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে আদালত প্রত্যেককে তিন বছর করে কারাদণ্ড দেন। সাজা শেষে ভারতের একটি মানবাধিকার সংস্থা তাদের দায়িত্ব নিয়ে শেল্টার হোমে আশ্রয় দেয়।
পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ ও ভারতের সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের সহযোগিতায় এবং ভারত সরকারের দেওয়া বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে তাদের দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হয়।
বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের ওসি সাইফুর রহমান আরো জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে ভারতীয় পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ ছয় বাংলাদেশিকে বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। ইমিগ্রেশনের প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পর তাদের বেনাপোল পোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। সেখান থেকে মানবাধিকার সংস্থা জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার তাদের গ্রহণ করে নিজ নিজ পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে।
যশোর জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ারের ডেপুটি ম্যানেজার মুহিত হোসেন জানান, বেনাপোল পোর্ট থানা থেকে ছয় বাংলাদেশিকে গ্রহণ করে তাদের শেল্টার হোমে রাখা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে আগামীকাল শুক্রবার তাদের নিজ নিজ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
ভালো কাজ ও উন্নত জীবনের আশায় বিদেশে পাড়ি জমাতে গিয়ে দালালের প্রতারণার শিকার হওয়ার ঘটনা নতুন নয়। সংশ্লিষ্টদের মতে, বিদেশে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে বৈধ পথে যাত্রা, নিয়োগকর্তার পরিচয় যাচাই এবং প্রয়োজনীয় ভিসা ও কাজের অনুমতিপত্র নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। এতে প্রতারণার ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি বিদেশে গিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত আইনি জটিলতা এড়ানো সম্ভব।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

