নাটোরের বাগাতিপাড়া ও লালপুরে মসজিদ ও মাজারের দানবাক্স এবং সিন্দুক ভেঙে টাকা চুরির ঘটনা ঘটেছে। বাগাতিপাড়ায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে অবস্থিত কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের দানবাক্সের তিনটি তালা ভেঙে টাকা চুরি করেছে দুর্বৃত্তরা। অন্যদিকে, লালপুরে হযরত বাগুদেওয়ান (রহ.)-এর মাজারের সিন্দুক ও মসজিদের দানবাক্স ভেঙে দানের টাকা নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রাখা একটি পুরোনো স্টিলের বাক্সও চুরি করা হয়েছে। দুই ঘটনায় চুরি হওয়া টাকার সঠিক পরিমাণ এখনো নির্ধারণ করা যায়নি।
বাগাতিপাড়ায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চুরির ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। উপজেলা পরিষদের মতো সংরক্ষিত এলাকায় প্রধান সড়কের পাশের একটি মসজিদে এমন চুরির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
মসজিদের মোয়াজ্জিন হোসেন জানান, বৃহস্পতিবার আসরের নামাজের পর দানবাক্সের কাছে গিয়ে তিনি তালা ভাঙা দেখতে পান। দানবাক্সের বাইরের দুটি ও ভেতরের একটি—মোট তিনটি তালা ভেঙে দুর্বৃত্তরা ভেতরে থাকা সব টাকা নিয়ে গেছে। তবে বাক্সে কত টাকা ছিল, তা তাৎক্ষণিকভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।
তিনি আরও জানান, সর্বশেষ গত ২৬ জুন দানবাক্সটি খোলা হয়েছিল। তখন প্রায় পাঁচ হাজার টাকা পাওয়া যায়। এরপর আর দানবাক্স খোলা হয়নি। বিষয়টি তিনি মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদককে অবহিত করেছেন।
মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা রিসোর্স সেন্টারের (ইউআরসি) ইন্সট্রাক্টর সরোয়ার মোরশেদ বলেন, সরকারি ছুটি থাকায় তিনি উপজেলা পরিষদে ছিলেন না। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) বিষয়টি জানানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শামসুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে। উপজেলা পরিষদের সিসিটিভি ফুটেজ রয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে ফুটেজ পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেবে।
বাগাতিপাড়া মডেল থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী উপপরিদর্শক (এসআই) দোলা জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অন্যদিকে, লালপুরে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে উপজেলার ভেল্লাবাড়ীয়া এলাকায় অবস্থিত হযরত বাগুদেওয়ান (রহ.)-এর মাজার ও মসজিদে চুরির ঘটনা ঘটে। মাজার পরিচালনা কমিটি ও মসজিদের সিসিটিভি ফুটেজ সূত্রে জানা গেছে, জানালার গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে দুর্বৃত্তরা সিন্দুক ও দানবাক্স ভেঙে টাকা নিয়ে যায়। এ সময় প্রায় তিন ফুট লম্বা একটি পুরোনো স্টিলের বাক্সও নিয়ে যায় তারা। ওই বাক্সে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংরক্ষিত ছিল।
মাজার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম জানান, মাজারের সিন্দুকে প্রায় তিন বছর ধরে দানের টাকা জমা ছিল। এর আগে সাধারণত তিন থেকে চার মাস পরপর সিন্দুক খোলা হতো। তখন প্রতিবার প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা পাওয়া যেত।
তিনি আরও বলেন, আগেও কয়েক মাস পরপর সিন্দুক খুলে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ টাকা পাওয়া গেছে। তবে এবার সিন্দুকে কত টাকা জমা ছিল এবং চুরির ঘটনায় মোট কত টাকা খোয়া গেছে, তা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব হচ্ছে না।
এ বিষয়ে মাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী মো. মেশকাতুল ইসলাম বলেন, মাজারে চুরির ঘটনা জানার পর তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। চুরি হওয়া সিন্দুকটি পুরোনো ছিল। এ ছাড়া একটি পুরোনো বাক্সে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংরক্ষিত ছিল। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নিতে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
লালপুর থানার ওসি মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, চুরির খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

