পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার চিলা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিক খান ও তার ছেলে সোহেলসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে দোকানে হামলা, ভাঙচুর, নগদ টাকা ও মালামাল লুট এবং এক যুবককে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে চিলা ইউনিয়নের এলজিইডির নতুন ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় আজাদ ফকিরের মুদি দোকানে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে মোংলা থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগে রফিক খান, তার ছেলে সোহেলসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে আজাদ ফকিরের ছেলের সঙ্গে অভিযুক্তদের তর্ক-বিতর্ক হয়। একপর্যায়ে রফিক খান, সোহেলসহ আরও কয়েকজন একত্রিত হয়ে তার ছেলের ওপর হামলা চালান ।
ভুক্তভোগীর বাবার অভিযোগ, হামলাকারীরা তার ছেলেকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথা লক্ষ্য করে আঘাত করেন। এতে তার বাম চোখের ওপর গুরুতর জখম হয় । পরে তাকে মাটিতে ফেলে শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি মারধর এবং গলা চেপে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করা হয়। চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা আহত যুবককে দোকানের সামনে নিয়ে আসেন এবং সেখানে পুনরায় কিল-ঘুষি ও লাথি মারেন । পরিবারের দাবি, হামলার একপর্যায়ে দোকানের মালামাল তছনছ করে ব্যাপক ক্ষতি করা হয়।
অভিযোগপত্র অনুযায়ী, রফিক খান ও সোহেল দোকানের ক্যাশে থাকা ৪৪ হাজার ৮০০ টাকা নিয়ে যান। সব মিলিয়ে নগদ টাকা ও মাল মিলিয়ে উল্লেখযোগ্য আর্থিক ক্ষতির দাবি করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এর আগেও এলাকায় মারামারি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির অভিযোগ রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকার দাবিও করেছেন কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা। তবে অভিযুক্ত রফিক খান ও তার ছেলে সোহেলের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
মোংলা থানার তদন্ত ওসি মানিক চন্দ্র গাইন আমার দেশকে বলেন, ‘অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ ও কারা জড়িত, তা দ্রুত তদন্ত করে দেখা হবে।’
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

