নানা সমস্যায় জর্জরিত হয়ে ভেঙে পড়েছে চিকিৎসাব্যবস্থা

ওসমান কবির (ফুলতলা) খুলনা

নানা সমস্যায় জর্জরিত হয়ে ভেঙে পড়েছে চিকিৎসাব্যবস্থা

ফুলতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এখন হাজারো সমস্যায় জর্জরিত। ডাক্তারসহ জনবল সংকটে খুঁড়িয়ে চলছে হাসপাতালটি। এছাড়াও ওষুধসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবাবঞ্চিত হচ্ছেন রোগীরা । ফলে এখানকার চিকিৎসা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। জানা গেছে, হাসপাতালটি প্রথমে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। এখন ১০০ শয্যায় উন্নীত করার জন্য গেজেট প্রকাশ হয়েছে।

২২ জন ডাক্তার থাকলেও হাসপাতালে আছেন ১৭ জন। তার মধ্যে জুনিয়র কনসালট্যান্ট কয়েকজন সপ্তাহে দুই দিন চিকিৎসা দেন। বাকি দিন খুলনা মেডিকেলে রোগী দেখেন। হাসপাতালের ইনডোরে ডাক্তার, নার্স, স্টোর কিপার, পরিসংখ্যানবিদসহ মোট ১৬২ জন থাকার কথা থাকলেও, আছেন ১২৩ জন। আউটসোর্সিং যেমন, টিকিট ক্লার্ক, অফিস সহায়ক, কুক, মালিসহ সর্বমোট ২০ জন থাকার কথা, আছে ১৯ জন। অপারেশন থিয়েটার থাকলেও, কোনো অপারেশন হয় না। রেডিওগ্রাফার নেই । তাই কোনো এক্স-রে হয় না। আছে ওষুধ সংকট। শিশু ডাক্তার আছে। রোগী গেলেই টেস্ট করতে পাঠায় তার পছন্দের জায়গায়।

বিজ্ঞাপন

সিজারসহ কোনো অপারেশন না হওয়ায়, গরিব লোকজন অনেক কষ্টে ভোগেন। এরকম হাজারো সমস্যায় জর্জরিত হাসপাতালে চিকিৎসা সুবিধাবঞ্চিত হচ্ছেন রোগীরা। ফুলতলা উপজেলার সর্বস্তরের মানুষ এই হাসপাতলে চিকিৎসা নিতে আসেন। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে, যশোর জেলার অভয়নগর উপজেলার একাংশ এবং খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার কিছু মানুষ চিকিৎসা নিতে এই হাসপাতালে ছুটে আসেন। কিন্তু শুধু জ্বর, সর্দি, মাথাব্যথা, পেটব্যথা, কাটা ছেঁড়াসহ নরমাল কিছু চিকিৎসা দেওয়া হয়। একটু হার্ট স্টোক, অ্যাপেন্ডিসাইডসহ বড় কোনো রোগী আসলে তাদেরকে কখনো সামান্য চিকিৎসা দিয়ে, কখনো না দিয়ে, খুলনা মেডিকেলসহ বিভিন্ন হাসপাতাল বা ক্লিনিকে রেফার্ড করা হয়। সরকারিভাবে বিভিন্ন ওষুধ দেওয়ার কথা থাকলেও বর্তমানে দেওয়া হচ্ছে, নাপা ট্যাবলেট ও সিরাপ, গ্যাসের ট্যাবলেট ওরস্যালাইন । এছাড়া সিবিসি, আরবিএস, ইউরিনসহ বেশ কিছু নরমাল টেস্ট করা হয়।

জেনারেটর আছে, কোনোদিন চালু করা হয়নি। বিদ্যুৎ চলে গেলে রোগীদের মোমবাতি কিনে জ্বালাতে হয়। খাবারের মান নিয়ে রোগীদের বেশ কিছু অভিযোগ রয়েছে। তবে ঠিকাদার সেলিম সরদার বলেন, আমি সময়মতো সঠিক নিয়মে মানসম্মত সব খাবার সাপ্লাই দেই। একাধিক শিশু রোগীর আত্মীয়-স্বজন অভিযোগ করেন, শিশু ডাক্তার সব রোগীদের টেস্ট করতে পাঠায় বেসরকারি ক্লিনিকে। শিশু ডাক্তার উত্তম কুমার দেওয়ান বলেন, এখানে শিশুদের কোনো পরীক্ষা করা হয় না। তাই বাইরে পাঠানো হয় ।

উপজেলা স্বাস্থ্য, পরিবার ও পরিকল্পনা ডাক্তার জেসমিন আরা আমার দেশকে বলেন, বছর শেষ তো, তাই এখন তেমন কোনো ওষুধ নেই। আগস্ট সেপ্টেম্বরে ওষুধ আসলে, তখন ওষুধ দেওয়া হবে। অপারেশন করা হয় না কেন জানতে চাইলে বলেন, অপারেশন থিয়েটার আছে কিন্তু অজ্ঞান করার ডাক্তার নেই । তাই কোনো অপারেশন করা হয় না।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন