নেত্রকোনা জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা অবহেলায় রোগী মৃত্যুর অভিযোগে হাসপাতালে ভাঙচুর করেছেন স্থানীয় লোকজন।
নিহত ওই ব্যক্তির নাম সজীব মিয়া (২৩)। তিনি পৌর শহরের আমগাছতলা এলাকার শুকুর আলীর ছেলে। তিনি পেশায় ইজিবাইকচালক ছিলেন।
রোববার রাত ১০টার দিকে নেত্রকোনার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে।
হামলায় জরুরি বিভাগ ও ডায়রিয়া ওয়ার্ডের কয়েকটি জানালার কাচ এবং একটি দরজা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে পুলিশ ও স্থানীয় ব্যক্তিদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
স্বজনদের অভিযোগ, গ্যাসের ব্যথা ও বমি নিয়ে রোববার সন্ধ্যায় সজীবকে জেলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলেও বিদ্যুৎ না থাকার অজুহাতে দায়িত্বরত চিকিৎসক সুজন পাল যথাসময়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেননি। একপর্যায়ে তার মৃত্যু হয়।
মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্বজন ও স্থানীয় লোকজন হাসপাতালে জড়ো হন। একপর্যায়ে তারা ক্ষুব্ধ হয়ে জরুরি বিভাগে ভাঙচুর চালায়। এতে জরুরি বিভাগ ও পাশের ডায়রিয়া ওয়ার্ডের কয়েকটি জানালার কাচ এবং একটি দরজা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. একরামুল হাসান বলেন, ঘটনার সময় হাসপাতালে বিদ্যুৎ ছিল না। বারবার পিডিবির নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি। রোগীর মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে। চিকিৎসা অবহেলা ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এমই
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

