নেত্রকোনার মদনের বালালী বাঘমারা উচ্চবিদ্যালয়ের স্টোররুমের কিছু আসবাবপত্র বিক্রি নিয়ে অভিযোগকে কেন্দ্র করে প্রধান শিক্ষক ও এক অফিস সহকারীর মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে। প্রধান শিক্ষকের অভিযোগ, এ বিষয়ে সাংবাদিকদের কাছে বক্তব্য দেওয়ার পর অফিস সহকারী তাকে গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অফিস সহকারী বলেছেন, তাদের মধ্যে শুধু কথাকাটাকাটি হয়েছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিদ্যালয়ের স্টোররুমে থাকা কিছু পুরোনো আসবাবপত্র ভাঙারি ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করা হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে এ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিক বিদ্যালয়ে গিয়ে বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ নেন।
প্রধান শিক্ষক ওয়াহিদুজ্জামান তালুকদার বলেন, আসবাবপত্র বিক্রির বিষয়ে সাংবাদিকেরা তার কাছে জানতে চাইলে তিনি তাদের বক্তব্য দেন। সাংবাদিকেরা চলে যাওয়ার পর অফিস সহকারী মোস্তফা কামাল হিরন তার সঙ্গে উত্তেজিত হয়ে কথা বলেন, গালিগালাজ করেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। একপর্যায়ে হিরন তাকে মারতে উদ্যত হন বলেও দাবি করেন প্রধান শিক্ষক। পরে এক সহকর্মী তাঁকে নিরাপদে বাড়িতে পৌঁছে দেন।
তবে মোস্তফা কামাল হিরন বলেন, সাংবাদিকেরা চলে যাওয়ার পর প্রধান শিক্ষক আসবাবপত্র বিক্রির বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসা করেন। এ সময় দুজনের মধ্যে উচ্চস্বরে কথা-কাটাকাটি হয়। তিনি বলেন, ‘আমি স্যারকে মারতে যাইনি। এগুলো মিথ্যা কথা।’
বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক হাফিজুর রহমানসহ কয়েকজন শিক্ষক দাবি করেন, স্টোররুমে থাকা স্টিলের দরজা-জানালা, মোটর, পুরোনো কম্পিউটার, স্টিলের বেঞ্চ ও টিনসহ বিভিন্ন মালামাল বিক্রি করা হয়েছে। তাদের ভাষ্য, এর আগেও এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে।
তবে এসব মালামাল বিক্রির ক্ষেত্রে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। একইভাবে কত পরিমাণ মালামাল বিক্রি হয়েছে, এর মূল্য কত এবং বিক্রির প্রক্রিয়া কী ছিল, সেসব বিষয়ও এখনো যাচাই করা হয়নি।
মদন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শফিকুল বারী বলেন, প্রধান শিক্ষক তাকে বিষয়টি জানিয়েছেন। স্টোররুমের মালামাল খোয়া যাওয়ার বিষয়ে থানায় অভিযোগ করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি প্রধান শিক্ষককে হুমকি ও গালিগালাজের অভিযোগে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাদির হোসেন শামীম বলেন, পরিচালনা কমিটির অনুমতি ছাড়া কোনো কর্মচারী বিদ্যালয়ের আসবাবপত্র বিক্রি করতে পারেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। প্রধান শিক্ষককে হুমকি বা মারতে যাওয়ার অভিযোগও তদন্ত করা হবে। তদন্তের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

