আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

নেত্রকোনা-১

জাতীয় পার্টির বিতর্কিত সাবেক এমপি এখন খেলাফতের প্রার্থী

ওবাইদুল হক পাঠান, কলমাকান্দা (নেত্রকোনা)

জাতীয় পার্টির বিতর্কিত সাবেক এমপি এখন খেলাফতের প্রার্থী

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নেত্রকোনা-১ (কলমাকান্দা-দুর্গাপুর) আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। এখানে দলটির নমিনি হিসেবে বিতর্কিত গোলাম রব্বানীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে। ফ্যাসিবাদের দোসর জাতীয় পার্টির (জাপা) মনোনয়নে এমপি নির্বাচিত হওয়া সাবেক এই নেতাকে রিকশা প্রতীকের কান্ডারি করায় সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

দলবদলের রাজনীতির জন্য বেশ আলোচিত-সমালোচিত রব্বানী। তিনি আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাপার পর চতুর্থবারের মতো দলবদল করে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসে যোগ দেন। এ কারণে স্থানীয় রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন ও ভূমি দখলের অভিযোগও আছে।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় সব নির্বাচনের আগেই রব্বানী নতুন দলে যোগ দেন এবং যেখান থেকে মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে সেখানেই অবস্থান নেন। ফলে তিনি ক্রমশ সাধারণ ভোটারদের কাছে অগ্রহণযোগ্য হয়ে পড়ছেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ছাত্রলীগের রাজনীতি দিয়ে রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শুরু করেন রব্বানী। ১৯৮৬ সালে তিনি কলমাকান্দা উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এরপর ১৯৮৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট কেটে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য হন।

২০০৬ সালে বিএনপিতে যোগ দিয়ে তিনি বিএনপির মনোনয়ন পান। তবে ওই নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হওয়ায় তার রাজনৈতিক অবস্থানও অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। পরে ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ নেতা ওবায়দুল কাদেরের ঘনিষ্ঠ পরিচয় ব্যবহার করে কলমাকান্দা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন বলেও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা আছে।

২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বিএনপির মনোনয়ন চান। কিন্তু দল মনোনয়ন না দিলে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পার্টিতে ফিরে যান। ২০২৪ সালের সংসদ নির্বাচনে লাঙ্গল প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জামানত হারান। এবারের নির্বাচনে তিনি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস থেকে রিকশা প্রতীকে মনোনীত হয়েছেন। এই মনোনয়ন নিয়ে স্থানীয় আলেম-ওলামাদের একাংশের মধ্যেও অসন্তোষ ও তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

রংছাতি ইউনিয়নের সাইফুল ইসলাম বলেন, রব্বানী আমাদের জমি দখলের জন্য বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করছেন। আওয়ামী লীগের আমলে তিনি জাতীয় পার্টি করার সুবাদে আমাদের জমি-বাড়ি দখলের জন্য হামলা চালান।

স্থানীয় আলেম হাফেজ দেলোয়ার হোসেন বলেন, একসময় আমি খেলাফত মজলিসে ছিলাম। রব্বানীর মতো ‘পল্টিবাজ’ লোক যখন খেলাফতের মনোনয়ন পেয়েছে তখন আমি ওই দল থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছি।

জাতীয় পার্টির আরেক নেতা ফরিদ মিয়া বলেন, রব্বানী আসলেই ‘পল্টিবাজ’ নেতা। তিনি আজ এই দলে কাল অন্য দলে। এখন আবার আলেমদের ওপর চেপে বসেছেন।

স্থানীয় কিছু মানুষের দাবি, সংসদ সদস্য থাকাকালীন ‘দেছার ঘাগ্রা’ নামে এক উপজাতি নারীর গোপনাঙ্গ কেটে ফেলার সঙ্গে রব্বানীর নাম জড়ায়। ওই ঘটনার পর থেকে সংশ্লিষ্ট সম্প্রদায়ের মধ্যে এখনো ক্ষোভ রয়ে গেছে বলে অভিযোগ আছে।

দেছার ঘাগ্রার পরিবারের সদস্য মর্জিনা ঘাগ্রা অভিযোগ করে বলেন, তিনি একজন বাজে লোক, আমরা তাকে দেখতে পারি না, আমার মাকে কুপ্রস্তাব দিত। তার কথায় সারা না দেওয়ায় মায়ের গোপনাঙ্গে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে।

অভিযোগের বিষয়ে রব্বানী বলেন, ‘আমি অরিজিনালি জাতীয় পার্টির লোক। দলটি থেকে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলাম, এমপিও হয়েছিলাম। উপজাতিদের সঙ্গে ছোট থেকে বড় হয়েছি তাদের সঙ্গে এখন আমার ভালো সম্পর্ক আছে। ভূমি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে জায়গাটা আমার কিন্তু সাইফুল দাবি করছে এটা তাদের এ নিয়ে আলোচনা চলছে।

ওবায়দুল কাদেরের প্রসঙ্গ নিয়ে তিনি বলেন, ‘তিনি (কাদের) পড়াশোনার সুবাদে আমার পরিচিত ছিলেন। এখন খেলাফত মজলিসে আছি আলেম-ওলামাদের সঙ্গে থাকতে চাই।’

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন