সরকারি জমি দখল করে আ.লীগ নেতার ডকইয়ার্ড নির্মাণ

হুমকির মুখে সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধ

শরীফুল ইসলাম ইন্না, সিরাজগঞ্জ

হুমকির মুখে সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধ
সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধের অভ্যন্তরে জমি দখল করে আওয়ামী লীগ নেতার ডকইয়ার্ড নির্মাণ। ছবি: আমার দেশ

সিরাজগঞ্জ শহররক্ষা বাঁধের অভ্যন্তরে শত শত বিঘা সরকারের আবাদি খাস জমি অবৈধভাবে জোরপূর্বক দখল করে বালুর স্তূপ ও ছোঁয়ামনি ডকইয়ার্ড নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে ।

সিরাজগঞ্জ পৌরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুস সাত্তার শহর রক্ষা বাঁধের অভ্যন্তরে ডকইয়ার্ড নির্মাণ করেছেন। এ কারণে বর্ষা মৌসুমে পানিপ্রবাহ বাঁধাগ্রস্ত হয়ে শহর রক্ষা বাঁধে আঘাত আনতে পারে বলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা মনে করছেন। আওয়ামী লীগ এ নেতার প্রতি জেলা বিএনপির বড় একটি অংশের সমর্থন থাকায় কেউ কিছু বলতে পারছেন না। বাঁধভাঙা আতঙ্কে শহরবাসী।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয়দের অভিযোগ, স্থানীয় এ আওয়ামী লীগ নেতা ও বালু ব্যবসায়ী পানি উন্নয়ন বোর্ড ও ব্যক্তি মালিকানাধীন পৌর এলাকার ধানবান্ধি ও পুঠিয়াবাড়ি মৌজার সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধ হার্ড পয়েন্টের দক্ষিণ পাশে শত শত বিঘা আবাদি জমি দখল করে ডকইয়ার্ড নির্মাণ করেছেন । যমুনা নদী থেকে বালু উত্তোলন, নিয়ম বহির্ভূতভাবে বালুর স্তূপ ও সরবরাহে ব্যবহৃত নৌযানের কাঠামো নির্মাণ, যন্ত্রাংশ লাগানো ও মেরামতে এ ডকইয়ার্ড নির্মাণ করেছেন। সরকারের খাস জমিতে পাকা ভবনসহ অবকাঠামো নির্মাণ করেছেন।

পুঠিয়াবাড়ি মৌজার ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিক হোসেনপুর নিবাসী আমির হোসেন, ধানবান্ধি মহল্লার মৃত আব্দুল মজিদের ওয়ারিশরা এবং মালশাপাড়া মহল্লার জাহের আলীর ওয়ারিশরা অভিযোগ করে বলেন, পৌর এলাকার ধানবান্ধি ও পুঠিয়াবাড়ি মৌজার আংশিক বসতবাড়ি, আবাদি জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। পরে ভেঙে যাওয়া জমিগুলো পলি পড়ে জেগে উঠে। জমির মালিকরা সেখানে বসতিসহ বিভিন্ন ফসলাদি চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। সেই জমিতে আব্দুস সাত্তার ক্ষমতার অপব্যবহার করে জোরপূর্বক জবরদখল করে দীর্ঘদিন ধরে বালুর স্তূপ করে ব্যবসা করছেন। সে সঙ্গে প্রায় পাঁচ-সাত বিঘা জমি দখল করে দ্বিতীয় তলায় পাকা ভবন করে ছোঁয়ামনি ডকইয়ার্ড নির্মাণ করেন ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০২৪ সালের পাঁচ আগস্ট ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে আত্মগোপনে চলে যান আওয়ামী লীগের এ নেতা আব্দুস সাত্তার। বালুর ব্যবসার ভাগ দিয়ে জেলা বিএনপির একটি অংশকে ম্যানেজ করে প্রকাশ্যে আসেন তিনি।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের এক উপবিভাগীয় প্রকৌশলী বলেন, আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুস সাত্তার যে জায়গায় ছোঁয়ামনি ডকইয়ার্ড নির্মাণ করেছেন সেটি সরকারি জায়গা। সে জায়গাটি বাঁধের নিচে। সুতরাং বাঁধের নিচের জায়গা ব্যক্তির হয় কীভাবে। ডকইয়ার্ড নির্মাণ করায় বর্ষা মৌসুমে পানিপ্রবাহে বাঁধাগ্রস্ত হবে। এতে বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি বাঁধের জায়গা দখলে নিয়ে ঢালুতে একটি মসজিদ নির্মাণ করেছেন। আমরা কিছু বলতে পারি না। সরকারি দলের লোকজন তো তার সঙ্গে রয়েছে।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগ নেতা ও বালু ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তার সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, যেখানে ডকইয়ার্ড করা হয়েছে সেখানে আমার জায়গা কেনা আছে। পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে ছাড়পত্র নেওয়া আছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের অনুমতি লাগে না। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র লাগে। সেটি আমার আছে।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মামুন খান বলেন, বসতবাড়ি ও ফসলি জমি ভেঙে নদীতে বিলীন হলে সিকস্তি বা সরকারের খাসের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়। সেই জমিগুলোর খাজনাদি বন্ধ হয়ে যায়। অতএব সরকারের খাস জমি ক্রয়-বিক্রয়, দখল করা ও অবকাঠামো নির্মাণ করা দণ্ডনীয় অপরাধ। ডকইয়ার্ড নির্মাণ বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। এসিল্যান্ডকে দিয়ে বিষয়টি তদন্ত করছি। আমরা বালু ব্যবসায়ী সাত্তারকে ডেকেছিলাম। তিনি জানিয়েছেন, লোকজনের কাছ থেকে স্ট্যাম্পের মাধ্যমে জমি নিয়েছি। আমরা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করব।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান বলেন, নদীর মধ্যে ভবন নির্মাণের অনুমতি আমরা দিতে পারি না। ডকইয়ার্ড নির্মাণের অনুমতি আছে কি না আমি জানি না।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন