ঈশ্বরদীতে বালুমহাল দখলে ফের গোলাগুলি, স্পিডবোট ছিনতাই

ঈশ্বরদীতে বালুমহাল দখলে ফের গোলাগুলি, স্পিডবোট ছিনতাই

পাবনার ঈশ্বরদীতে পদ্মা নদীর বালুমহালের নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে আবার দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন এক স্পিডবোটচালক। তিনি আহত হয়ে পড়ে গেলে স্পিডবোটটি ছিনিয়ে নেয় প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসীরা। গত মঙ্গলবার উপজেলার ইসলামপাড়া ঘাট, আরামবাড়িয়া, গৌরীপুর ও বিলমাড়িয়া এলাকায় পদ্মা নদী ও তীরবর্তী অঞ্চলে এ গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।

গুলিবিদ্ধ স্পিডবোটচালকের নাম সালমান হোসেন। তিনি উপজেলার সাঁড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা। তাকে রাজশাহীর বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, পদ্মা নদীর ঈশ্বরদী, কুষ্টিয়া ও নাটোরের লালপুর অংশজুড়ে একাধিক বালুমহাল আছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব এলাকায় বালুর ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে লালপুরের যুবলীগ নেতা শহীদুল ইসলাম ও আওয়ামী লীগ নেতা কাঁকন এবং ঈশ্বরদী উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক সুলতান আলী বিশ্বাস টনি ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্য সচিব মেহেদী হাসানের মধ্যে বিরোধ চলছে।

এই দ্বন্দ্বের জেরে সম্প্রতি তাদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার টনি ও মেহেদী পক্ষের নিয়ন্ত্রিত একটি ভাড়া করা স্পিডবোট পদ্মা নদীতে টহলে গেলে প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসীরা হঠাৎ তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে স্পিডবোটের চালক সালমান হোসেন পিঠে গুলিবিদ্ধ হন।

আহত সালমান বলেন, তিনি ইসলামপাড়া ঘাট থেকে আরামবাড়িয়া হয়ে বিলমাড়িয়া যাচ্ছিলেন। গৌরীপুর এলাকায় পৌঁছলে আচমকা একটি স্পিডবোট থেকে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। তখন প্রাণ বাঁচাতে তিনি তীরে স্পিডবোট থামান। এ সুযোগে হামলাকারীরা নৌযানটি ছিনিয়ে নেয়।

এদিকে নদীতে গোলাগুলি ও স্পিডবোট ধাওয়ার একটি ভিডিও সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক চাঞ্চল্যের পাশাপাশি আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঈশ্বরদীর বালু ব্যবসায়ী ও তরীমহল ঘাটের ইজারাদার মেহেদী হাসান বলেন, ‘শহীদুল ও কাঁকন বাহিনীর সন্ত্রাসীরা আমাদের একটি স্পিডবোট ছিনতাই করেছে। এ সময় আমাদের চালক গুলিবিদ্ধ হন। প্রশাসনের কাছে দ্রুত পদক্ষেপ কামনা করছি।’

ঘটনার বিষয়ে জানতে লালপুরের যুবলীগ নেতা শহীদুল ইসলাম ও কাঁকনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিলেও নম্বর দুটি বন্ধ পাওয়া যায়।

ঈশ্বরদী থানার ওসি আ স ম আবদুন নূর বলেন, গোলাগুলির ঘটনার খবর পেয়ে আমরা নৌপুলিশসহ অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যদের পদ্মা নদীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মোতায়েন করেছি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন