শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, “আমরা এসেছি, এই জাতিকে সুশিক্ষিত করার দায়িত্ব পেয়েছি। যে যত ট্রলই করুন, যে যত অপবাদই দিন, আমাদের সঠিক দায়িত্ব থেকে বিচ্যুত করতে পারবেন না। শিক্ষা ভাবনাকে বাদ দিয়ে যারা উশৃঙ্খল কথা বলে সমাজকে উসকানি দিতে চায়, তরুণ প্রজন্ম তাদের ব্যর্থ করে দেবে।”
শনিবার দুপুরে নওগাঁ সদর উপজেলা অডিটোরিয়ামে নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে শহরের বরুনকান্দি এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাসে নামফলক উন্মোচন করেন শিক্ষামন্ত্রী।
ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, “আমাকে নিয়ে যারা ট্রল করেছেন, তারা কেউ পরীক্ষার্থী নন। সিটি কলেজ, আইডিয়াল কলেজ, ভিকারুননিসার মতো প্রতিষ্ঠানের কাউকে আন্দোলন করতে দেখা যায়নি। এভাবে আন্দোলনের নামে ভুল পথে পরিচালিত করে একটি অস্থির পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে।”
তিনি বলেন, “২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়ে আমি এই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছি। বর্তমানে তাঁর জ্যেষ্ঠ সন্তান তারেক রহমানের অধীনে দায়িত্ব পালন করছি। অন্যায়কে প্রশ্রয় দেওয়ার কোনো নির্দেশ আমাকে দেওয়া হবে—এমনটা ভাবার কোনো কারণ নেই। আপনারা নিজ নিজ দায়িত্বে অটল থাকুন। লেখাপড়া আমাদের করতেই হবে এবং এর মান উন্নয়ন করতে হবে।”
সম্প্রতি কুমিল্লায় এইচএসসি পরীক্ষা চলাকালে জলাবদ্ধতার কারণে পরীক্ষা এক ঘণ্টা পিছিয়ে দেওয়ার বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পরীক্ষার্থীদের স্বার্থ বিবেচনা করেই মানবিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে প্রশ্নফাঁসের গুজব ও পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর প্রচারণার বিষয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “পরীক্ষা ছাড়া মেধার মূল্যায়ন ও সনদ প্রদান সম্ভব নয়। তাই পরীক্ষা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও আধুনিক করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত মেধাবী। দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে আধুনিক ও কর্মমুখী শিক্ষার বিকল্প নেই। এমন বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করা হচ্ছে, যেখানে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকেও শিক্ষার্থীরা পড়তে আসবে।”
শিক্ষাখাতে সরকারের বরাদ্দ বৃদ্ধির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা ও অতীতের বিভিন্ন সমস্যার মধ্যেও শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বাজেট ৮৭ হাজার কোটি টাকা থেকে ১ লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। ভবিষ্যতে জাতীয় আয়ের (জিডিপি) ৫ শতাংশ শিক্ষাখাতে বরাদ্দের লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে।
নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমের উদ্বোধন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “প্রাথমিকভাবে ৮০ শিক্ষার্থী নিয়ে কার্যক্রম শুরু হলেও দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয়টিকে নিজস্ব ক্যাম্পাসে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।” স্থানীয় চাহিদার ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক মানের ‘স্কুল অব এগ্রিকালচার’ প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, সেশনজট কমাতে ২০২৭ সাল থেকে জানুয়ারিতে এসএসসি এবং মার্চে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হাছানাত আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ, ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফরিদুল ইসলাম, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. এ এস এম আমানুল্লাহসহ বিভিন্ন পর্যায়ের অতিথিরা।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন সংসদ সদস্য, নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শিক্ষাবিদ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও আমন্ত্রিত অতিথিরা।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠিত নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৫ সালের ৩ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের অনুমোদনের পর আইন বিভাগ এবং অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন বিভাগ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে ওই দুই বিভাগে শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির পাঠদান কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

