চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকায় ডেঙ্গুর ভয়াবহতা প্রতিরোধে নানামুখী কার্যক্রম চালাচ্ছে পৌরসভা। এডিস মশার বিস্তার রোধ ও ডেঙ্গুর ঝুঁকি কমাতে প্রতিদিন চলছে পরিচ্ছন্নতা অভিযান। একই সঙ্গে বাড়িতে বাড়িতে চালানো হচ্ছে এডিস মশার লার্ভা ধ্বংসের কার্যক্রম।
পৌর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পৌর এলাকার ১৫ ওয়ার্ডে একদিন পরপরই পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে গঠিত আটটি টিম প্রতিদিনই কোনো না কোনো এলাকায় অভিযান চালাচ্ছে। এসব টিমের সদস্যরা সড়ক, নালা-নর্দমা ও আশপাশের আবর্জনা পরিষ্কারের পাশাপাশি এডিস মশার প্রজননস্থল শনাক্ত করে ধ্বংস করছে। বিশেষ করে বাড়ির আঙিনা, ছাদ, পরিত্যক্ত পাত্র, ফুলের টব, ডাবের খোসা ও জমে থাকা পানির বিভিন্ন উৎসেও এডিস মশার লার্ভা ধ্বংস করা হচ্ছে।
টিমের সদস্যরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে সচেতনতা গড়ে তুলছেন। পাশাপাশি সচেতনতামূলক লিফলেটও বিতরণ করা হচ্ছে। জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারী, সাংবাদিক, রেড ক্রিসেন্ট ও স্কাউটস সদস্যসহ বিভিন্ন পেশাজীবীকে নিয়ে কমিটি গঠন করে এসব কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
পাঁচ নম্বর টিমের দায়িত্বপ্রাপ্ত পৌরসভার সমাজ উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. নাইমুল হক বলেন, ক্রাশ প্রোগ্রাম শুরুর পর থেকেই আমরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে এডিস মশার লার্ভা ধ্বংস করছি। পাশাপাশি অপরিচ্ছন্ন এলাকায় স্প্রে মেশিন দিয়ে কীটনাশক ও ফগার মেশিন দিয়ে মশার ওষুধ ছিটানো হচ্ছে। আমরা পৌরসভার ১২ ও ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের প্রতিটি মহল্লাতেই গেছি এবং মশা ও লার্ভা ধ্বংস করেছি।
সাত নম্বর টিমের সদস্য জাকির হোসেন পিংকু বলেন, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের প্রতিটি পাড়া-মহল্লার অলিগলিতে আমরা পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালিয়েছি। এছাড়া মহল্লায় মহল্লায় মাইকিং করা হয়েছে। লিফলেট বিতরণ করে সচেতন করা হয়েছে।
দুই নম্বর টিমের সদস্য মো. আসাদুল্লাহ বলেন, তিন সপ্তাহের পরিচ্ছন্নতা অভিযানে পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার অর্ধশত বাড়িতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। এসব বাড়িতে আইসক্রিমের খালি কাপে জমে থাকা পানিতেও লার্ভা পাওয়া গেছে। তিনি আরো বলেন, সবচেয়ে বেশি লার্ভা পাওয়া গেছে শান্তিবাগ ও ফকিরপাড়ায়।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. একেএম শাহাব উদ্দীন বলেন, ড্রেন বা বাইরের খোলা জায়গার চেয়ে অনেক বেশি লার্ভার অস্তিত্ব পাওয়া গেছে বাসাবাড়িতে। বাড়ির ব্যবহৃত ছোট ছোট পাত্রে রাখা পানিতেও এডিস মশার লার্ভা পেয়েছি। ফুলদানির পানিতে, গাছের টবে, চিপসের ফেলে দেওয়া প্যাকেটে জমা পানি, ডাবের খোসায় জমে থাকা পানিতে এডিস মশার লার্ভা শনাক্ত করা হয়েছে। এমনও ঘটনা আমরা দেখেছি- ডেঙ্গু রোগীকে ডাব খাওয়ানোর পর ডাবের খোসা ছাদে রাখা হয়েছে, সেখানেও এডিস মশার লার্ভা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সবার আগে প্রয়োজন মানুষের সচেতনতা।
তিনি বলেন, জেলা প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ, পৌর কর্তৃপক্ষ সবাই কাজ করছে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে। কিন্তু সবকিছু ভেস্তে যাবে যদি সাধারণ মানুষ সচেতন না হয়।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মামুন অর রশীদ বলেন, ক্রাশ প্রোগ্রামের অংশ হিসেবে আমরা ব্যাপক কার্যক্রম চালাচ্ছি পৌর এলাকায়। আমরা ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে রীতিমতো যুদ্ধ ঘোষণা করেছি। আমাদের কাজ চলমান আছে। আশা করছি, শিগগির আমরা ভালো ফল পাব।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

