খাল খনন শেষে অতিরিক্ত টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত, প্রশংসায় প্রকল্প কর্তৃপক্ষ

খাল খনন শেষে অতিরিক্ত টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত, প্রশংসায় প্রকল্প কর্তৃপক্ষ

সরকারি অর্থের সাশ্রয় ও স্বচ্ছ ব্যবহারের একটি ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার একটি খাল খনন প্রকল্প। প্রকল্পের সব কাজ সম্পন্ন করার পর অব্যয় ৫ লাখ ৩৬ হাজার ৬৬৯ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়েছে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ। সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে এমন উদ্যোগ স্থানীয়দের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মহলেও প্রশংসিত হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

জানা যায়, খাল খনন ও পুনঃখনন কার্যক্রমটি দেশের জলাবদ্ধতা নিরসন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, সেচব্যবস্থার উন্নয়ন, মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় চলমান জাতীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখননের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। চলতি বছরের মার্চ মাসে দিনাজপুরের কাহারোলে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, খাল খনন প্রকল্পের মোট বরাদ্দ ছিল ৩৯ লাখ ৮৫ হাজার ৭৯৩ টাকা। এর মধ্যে ১০১ জন শ্রমিকের মজুরি বাবদ ব্যয় হয়েছে ১৮ লাখ ৩৮ হাজার টাকা। এছাড়া খালের দুই তীরে পরিবেশ সংরক্ষণ ও সবুজায়নের লক্ষ্যে বৃক্ষরোপণে ব্যয় করা হয়েছে ৩ লাখ টাকার বেশি। প্রয়োজনীয় সব কাজ শেষ হওয়ার পর অবশিষ্ট ৫ লাখ ৩৬ হাজার ৬৬৯ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।

প্রকল্পে শ্রমিক হিসেবে কাজ করা বোরহান আলী জানান, খননকাজের একটি অংশ এস্কাভেটর দিয়ে এবং বাকি অংশ স্থানীয় শ্রমিকদের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়েছে। এতে একদিকে কাজের গতি বেড়েছে, অন্যদিকে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থানেরও সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

তবে সরেজমিনে দেখা যায়, খালের কয়েকটি স্থানে পাড় ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা জানান, খাল খননের ফলে কৃষিকাজ ও পানিপ্রবাহে ইতিবাচক পরিবর্তন এলেও কিছু জায়গায় জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব ক্ষতির বিষয়ে সরকারের সহায়তা কামনা করেন তারা।

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই শেষে তাদের আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করার চেষ্টা করা হবে। তিনি বলেন, খাল খননের ফলে এ অঞ্চলের কৃষি উৎপাদন ও সেচব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মনিরুজ্জামান মনির বলেন, স্থানীয় জনগণের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে খননের পরিধি কিছুটা বাড়ানো হয়েছিল। তবে জমির মালিকদের সম্মতি নিয়েই কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রকল্পের সব কাজ শেষ হওয়ার পর অব্যয়িত ৫ লাখ ৩৬ হাজার ৬৬৯ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. তাইফুর রহমান বলেন, সরকারি প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে উদ্বৃত্ত অর্থ কোষাগারে ফেরত দেওয়ার এই উদ্যোগ একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। তিনি বলেন, শুধু খাল খনন নয়, খালের দুই পাশে বৃক্ষরোপণ, পানিপ্রবাহ পুনরুদ্ধার এবং স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি—সব মিলিয়ে প্রকল্পটি টেকসই গ্রামীণ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন