নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলায় সম্পত্তির লোভে নিঃসন্তান বড় বোন হালিমা বেগমকে (৭০) হত্যা করেন আপন ছোটভাই। এ ঘটনায় মামলার অল্প সময়ের মধ্যে রহস্য উদঘাটন করেছে থানা পুলিশ। পাশাপাশি নিহতের ছোট ভাই ও ভাইয়ের স্ত্রীসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রশি ও ওড়না উদ্ধার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা হলেন- নিহতের ছোট ভাই মজনু রহমান (৫৬), তার স্ত্রী হোসনে আরা (৪২), বস্তাবর গ্রামের রবিউল ইসলাম (৩৯) এবং ছিলিমপুর গ্রামের হামিদুর রহমান (৫৫) ও মোশারফ হোসেন (৪৫)।
ধামইরহাট থানার ওসি মিন্টু রহমান জানান, ঘটনার প্রায় পাঁচ দিন আগে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ১৮ অক্টোবর রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে হামিদুর রহমান হালিমা বেগমকে ঘর থেকে ডেকে বের করেন। এরপর অন্যরা মিলে তার মুখ চেপে ধরে টেনেহিঁচড়ে বাড়ি থেকে দূরে একটি খড়ের পালার পেছনে নিয়ে যান। সেখানে তার হাত রশি দিয়ে বেঁধে পরিহিত ওড়না দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরে তার কানের দুল ছিনিয়ে নেওয়া হয়। হত্যার পর কয়েকজন মিলে লাশটি সরিয়ে নিয়ে ধানখেতের আইলে বাঁশঝাড়ের নিচে ফেলে রাখেন। পরে লাশের চোখ-মুখের ওপর ওড়না দিয়ে ঢেকে দিয়ে তারা নিজ নিজ বাড়িতে চলে যান। পরদিন সকালে লাশ দেখতে পেয়ে স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
তিনি আরও জানান, ১৯ অক্টোবর নিহতের বোন মনোয়ারা বেগমের দায়ের করা এজাহারের ভিত্তিতে থানায় একটি হত্যা মামলা হয়। এ
রপর নওগাঁ জেলা পুলিশ সুপারের তত্ত্বাবধানে পুলিশের একটি চৌকস দল অভিযান চালিয়ে ওই রাতে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেন। বুধবার দুপুরে আসামিদের আদালতের মাধ্যমে নওগাঁ জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। নিহত হালিমা বেগম নিঃসন্তান ও স্বামী পরিত্যক্ত ছিলেন। প্রায় ২০ বছর ধরে তিনি বাবার বাড়িতে ছোট ভাই মজনুর বাড়ির পেছনে টিনের ছাপড়ার একটি ছোট ঘরে বসবাস করতেন।
গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগি পালন এবং অন্যের বাড়িতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন তিনি। নিজের জমানো টাকা বড় ভাইয়ের ছেলে রুবেলের কাছে রাখতেন। এ নিয়ে ছোট ভাই ও তার স্ত্রীর সঙ্গে মাঝেমধ্যে বিরোধ হতো বলে তদন্তে উঠে এসেছে। এ ছাড়া নিহতের কানে থাকা স্বর্ণের দুল ও নাকের নথের প্রতি আসামিদের লোভ ছিল বলে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়।
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

