তিস্তার ভাঙনে ঝুঁকিতে স্কুল, মসজিদ ও অর্ধশত পরিবার

উপজেলা প্রতিনিধি, কাউনিয়া (রংপুর)

তিস্তার ভাঙনে ঝুঁকিতে স্কুল, মসজিদ ও অর্ধশত পরিবার

বর্ষার শুরুতেই রংপুরের কাউনিয়া উপজেলায় তিস্তা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে নদীপাড়ের মানুষের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। পানি কমতে শুরু করার পর গত এক সপ্তাহে উপজেলার চর ঢুষমারা গ্রামে অন্তত ২৮টি পরিবারের বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ঘরবাড়ি হারিয়ে অনেক পরিবার এখন খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

একই সঙ্গে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি জামে মসজিদ, একটি হাফেজিয়া মাদ্রাসাসহ প্রায় অর্ধশত পরিবারের বসতভিটা এখন চরম ঝুঁকিতে রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সরেজমিনে দেখা যায়, পানি কমলেও তিস্তার তীব্র স্রোতে নদীতীরের ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। মুহূর্তেই বসতভিটা বিলীন হয়ে যাচ্ছে নদীগর্ভে। ভাঙনের আতঙ্কে অনেক পরিবার ঘরবাড়ি খুলে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছে, আবার কেউ সর্বস্ব হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে অস্থায়ীভাবে আশ্রয় নিচ্ছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ইতোমধ্যে ২৮টি পরিবারের বসতভিটা নদীগর্ভে চলে গেছে। পাশাপাশি ঢুষমারা জামে মসজিদ, ঢুষমারা ফোরকানিয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসা এবং আরও প্রায় অর্ধশত পরিবারের ঘরবাড়ি ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে। কয়েকটি বসতবাড়ি এখন একেবারে নদীর কিনারায় ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে।

চর ঢুষমারার বাসিন্দা নজরুল ইসলাম বলেন, “তিস্তার ভাঙন আমরা আগেও দেখেছি, কিন্তু এত অল্প সময়ে এত বড় ক্ষতি আগে কখনো হয়নি। মানুষ একের পর এক বসতভিটা হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ছে।”

ভুক্তভোগী বাদশা মিয়া বলেন, “বন্যার পানি নামার পর থেকেই ভয়াবহ ভাঙন শুরু হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পুরো চর ঢুষমারা নদীগর্ভে চলে যাবে।”

জয়নাল আবেদীন বলেন, “আমরা শুধু ত্রাণ চাই না, নদীভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনার বাস্তবায়ন চাই।”

আবেদ আলী অভিযোগ করে বলেন, “প্রতিবার নির্বাচনের আগে নদীভাঙন রোধের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়, কিন্তু পরে আর কেউ খোঁজ নেন না। এখনই কার্যকর নদীশাসনের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।”

স্থানীয়দের দাবি, বসতভিটার পাশাপাশি ফসলি জমি, গ্রামীণ সড়ক, মাঠ ও ঘাটও নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। এতে নদীপাড়ের মানুষের দুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে উপজেলার চর ঢুষমারা গ্রামের বড় একটি অংশ অচিরেই তিস্তা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মেজবাহুল রহমান জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে ভুক্তভোগী পরিবারের তালিকা তৈরি করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।

রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...