রংপুরের গঙ্গাচড়ায় বিড়ির বাজার নিয়ে বিরোধের জেরে মর্নেয়া ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ে সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এতে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মীর কাসেম মিঠুসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। বুধবার রাত ৯টার দিকে উপজেলার মর্নেয়া ইউনিয়নের কামদেব শেখপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আফিজ, আকিব ও নিবিড় বিড়ির স্বত্বাধিকারী এবং মর্নেয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মীর কাসেম মিঠুর সঙ্গে ফ্রেশ বিড়ির স্বত্বাধিকারী রমজান আলী জিকুর বিড়ির বাজার নিয়ে আগে থেকেই বিরোধ চলছিল। এই বিরোধের জেরে ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলাকালে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
তবে মীর কাসেম মিঠুর অভিযোগ, মর্নেয়া ইউনিয়নে মাদকবিরোধী কার্যক্রম চালিয়ে মাদক ব্যবসায়ীদের তৎপরতা বন্ধ করে দেওয়ায় তার ওপর এই হামলা চালানো হয়েছে। এ অভিযোগের বিষয়ে জানতে রমজান আলী জিকুর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনার সময় মীর কাসেম মিঠু, ছোট আসাদ ও তৌফিক হোসেন বাবলু মারধরের শিকার হন বলে জানা গেছে। এ সময় বিএনপির কার্যালয়ে থাকা চেয়ার, ব্যানার এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছবি ভাঙচুর করা হয়।
এ ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে মর্নেয়া ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয় প্রাঙ্গণে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন গঙ্গাচড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি চাঁদ সরকার।
এ সময় উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব আলী, মর্নেয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মাবুদ এবং জাতীয়তাবাদী প্রচার দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি রুহুল আমীনসহ দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে চাঁদ সরকার দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর ও মীর কাসেম মিঠুর ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে আনুমানিক ৫০ থেকে ৬০ জন নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
গঙ্গাচড়া মডেল থানার ওসি আব্দুছ ছবুর বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

