রংপুরের কাউনিয়া উপজেলা চত্বর দীর্ঘদিন ধরে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ, ময়লা-আবর্জনার স্তুপ এবং অকার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাব ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় পুরো চত্বর এখন মশার প্রজননকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এতে উপজেলায় সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ মশাবাহিত বিভিন্ন রোগের ঝুঁকিতে রয়েছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলা চত্বরের বিভিন্ন অফিস ভবনের পেছনে দীর্ঘদিন ধরে জমে আছে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ। অনেক স্থানে ড্রেন পরিষ্কার না করায় নোংরা পানি জমে রয়েছে। এসব স্থানে মশার বংশ বিস্তারের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এছাড়া চত্বরজুড়ে ছড়িয়ে থাকা আগাছা পরিবেশকে আরও অস্বাস্থ্যকর করে তুলেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও সেবা নিতে আসা লোকজন জানান, প্রতিবছর নামমাত্র পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনার কথা বলা হলেও বাস্তবে তার কোনো স্থায়ী প্রভাব চোখে পড়ে না। গণশৌচাগারও নিয়মিত পরিষ্কার করা হয় না। ফলে দুর্গন্ধ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
বিশেষ করে উপজেলা চত্বরের পুরাতন ভবনের পেছনের অংশে গিয়ে আরো উদ্বেগজনক পরিস্থিতি দেখা যায়। সেখানে যত্রতত্র পড়ে থাকা নারিকেলের খোল, প্লাস্টিকের বোতল ও বিভিন্ন পরিত্যক্ত পাত্রে বৃষ্টির পানি জমে রয়েছে। এসব স্থানে মশার লার্ভা জন্মাতে দেখা গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
চত্বরের আসা একাধিক ব্যক্তি বলেন, দিনদিন মশার উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় সন্ধ্যার পর অফিস এলাকায় অবস্থান করাই কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেকেই ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার মতো রোগের আশঙ্কা করছেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর কার্যকর তদারকি এবং নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের অভাবেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত ময়লা-আবর্জনা অপসারণ, ড্রেন পরিষ্কার, আগাছা নিধন এবং নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার দাবি জানান তারা।
তারা আরো বলেন, উপজেলা চত্বরে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ বিভিন্ন সরকারি সেবা নিতে আসেন। তাই জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।
কাউনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পাপিয়া সুলতানা বলেন, “বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

