টানা ভারি বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে গাইবান্ধার সাঘাটায় বাঙালি, করতোয়া ও কাটাখালী নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। নদীগুলোতে পানির পাশাপাশি বেড়েছে স্রোতের তীব্রতাও। এতে নদীতীরবর্তী এলাকার কৃষকের আমনের বীজতলা, পাট ও বিভিন্ন সবজির ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। একই সঙ্গে উপজেলার কচুয়া ইউনিয়নের চন্দনপাট এলাকায় নদীভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।
শুক্রবার সরেজমিনে দেখা যায়, কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে জেলার সাঘাটা, ফুলছড়ি ও গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত বাঙালি, করতোয়া ও কাটাখালী নদীর পানি বাড়ছে। সাঘাটা উপজেলার ভুতমারা, শঙ্করগঞ্জ ঘাট, এলাচের ঘাট, রামনগর, ত্রিমোহিনী, কচুয়া এবং মহিমাগঞ্জের দেওয়ানতলা এলাকায় পানির চাপ বেশি দেখা গেছে।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে নদীর পানি ওঠানামা করলেও গত তিন দিন ধরে পানির চাপ বেড়েছে। এতে নদীতীরবর্তী এলাকার কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। উপজেলার বাঙাবাড়ী, কামালেরপাড়া, চন্দনপাটসহ বিভিন্ন এলাকায় সবজির ক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
চন্দনপাট এলাকার কৃষক শামসুল ইসলাম ও ওবায়দুল ইসলাম জানান, বাঙালি-করতোয়া নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ওই এলাকার প্রায় শতাধিক কৃষকের আমনের বীজতলা পানিতে ডুবে গেছে। এছাড়া নদীতীরবর্তী এলাকার প্রায় পাঁচ শতাধিক কৃষকের উঠতি পাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক কৃষক পরিপক্ব হওয়ার আগেই পাট কাটতে না পারায় তা পানিতে তলিয়ে গেছে।
এদিকে, কচুয়া ইউনিয়নের চন্দনপাট এলাকায় বাঙালি নদীর ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। গত কয়েকদিনে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে কৃষকদের আবাদি জমি। পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ভাঙন আরও বাড়ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
চন্দনপাট এলাকার কৃষক কামরুল ইসলাম বলেন, পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই আবাদি জমিতে ভাঙন শুরু হয়েছে। তীব্র ভাঙনে একের পর এক ফসলি জমি নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে।
কচুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী খন্দকার বলেন, নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কৃষকরা। ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।
সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল কবীর বলেন, নৌযানে করে নদীতীরবর্তী ও চরাঞ্চলের ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। সরেজমিনে সমস্যাগুলো জানার চেষ্টা চলছে। ক্ষয়ক্ষতি ও পরিস্থিতি বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

