শহীদ আবু সাঈদের পরিবারের দাবি

১৬ জুলাই নিয়ে নাটক করা হয়েছে

১৬ জুলাই নিয়ে নাটক করা হয়েছে

আবু সাঈদের হত্যার ঘটনায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা এবং ১৬ জুলাইকে শহীদ আবু সাঈদ দিবস করার দাবি জানিয়েছেন তার পরিবার সদস্যরা।

মঙ্গলবার সকালে রংপুরে নিজ বাড়িতে গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে কথা বলেন আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন, মা মনোয়ারা বেগম ও বড় ভাই আবু হোসেন।

বিজ্ঞাপন

শহীদ আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন বলেন, আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডে শুধু পুলিশ নয়, ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগসহ দলের বিভিন্ন সহযোগী সংগঠন ও রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, প্রক্টরসহ যেসকল কর্মকর্তা-কর্মচারী জড়িত ছিল তাদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মকবুল হোসেন বলেন, সরকার যদি বিচার করে তাহলে আমরা ন্যায় বিচার পাব। আর যদি বিচার না করে তাহলে হবেই না। প্রকাশ্যে আমার ছেলেকে গুলি করে মারছে পুলিশ এটা পুরো বিশ্ব জাতি দেখেছে। এটাতো আমার কথা না, দেশের মানুষ দেখেছে। এটার যেন ন্যায্য বিচার হয় এটাই আমার দাবী।

শহীদ আবু সাঈদের মা মনোয়ারা বেগম বলেন, সমাজে যদি ধনী-গরীবের বৈষম্য নিরসন না হয় তবে, আবু সাঈদের রক্ত বৃথা যাবে। ১৬ জুলাই কে শহীদ আবু সাঈদ দিবস এবং জুলাইয়ের যেকোন এক দিনকে জুলাই শহীদ দিবস হিসেবে ঘোষণার দাবিও জানান পরিবারের সদস্যরা।

শহীদ আবু সাঈদের বড় ভাই আবু হোসেন বলেন, ‘১৬ জুলাই নিয়ে নাটক করা হয়েছে। তারা যদি আগেই ঘোষণা দিতেন, ১৬ জুলাই ‘জুলাই শহীদ দিবস’। তাহলে আমাদের আপত্তির জায়গাটা কম থাকত। কিন্তু ঘোষণা দিয়ে একজন আইকনিক শহীদের এই ধরনের অপমান আমরা পরিবারে পক্ষ থেকে তীব্র নিন্দা এবং ধিক্কার জানাই। যার অনুপ্রেরণায় যুগে যুগে মানুষকে অনুপ্রাণিত করবে, তার জন্য তারা একটা দিন রাখতে পারলেন না।’

আবু সাঈদের ভাই আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমরা ইতিপূর্বে দেখেছি, অনেক দিবস পালন করা হয়েছে, অনেক মানুষের নামে। যাদের জাতির জন্য এক পয়সারও উপকার ছিল না। তাদের নামে দিবস পালন করা হয়েছে। কিন্তু শহীদ আবু সাঈদের মৃত্যুর দিনটা ‘আবু সাঈদ শহীদ দিবস’ ঘোষণাতে সমস্যাটা কোথায় ছিল। আমরা যুগে যুগে তো দেখে আসছি। বিভিন্ন বিপ্লবের শহীদের বিভিন্নভাবে স্মরণ করা হয়।’

১৬ জুলাই ‘শহীদ আবু সাঈদ দিবস’ রাখার দাবি করে আবু হোসেন বলেন, ‘আমাদের দাবি, ১৬ জুলাই শহীদ আবু সাঈদ দিবস ছিল, আমরা এটা শহীদ আবু সাঈদ দিবসই চাই। জুলাই শহীদ দিবস যেটা আছে, জুলাইয়ের যে কোনো দিন সেটা সরকার এটা পালন করতে পারে। ১৬ জুলাই যার আত্মত্যাগ এত বড় বিপ্লব সংঘটিত হলো। তাকে এভাবে অবহেলা করা আমরা পরিবারের পক্ষ থেকে মেনে নিতে পারছি না।’

আবু হোসেন আরও বলেন, ‘১৬ জুলাই যে আবু সাঈদের শহীদ হওয়ার মধ্য দিয়ে কোটাসংস্কার আন্দোলন একটা গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নেয়। লোকজন আর ঘরে বসে থাকেনি, জীবনের মায়া ত্যাগ করে রাজপথে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। জীবনের মায়া ত্যাগ করে মানুষের রাজপথে ঝাঁপিয়ে পড়ার যে অনুপ্রেরণা সেটা হচ্ছে আবু সাঈদ। ১৬ জুলাই শহীদ আবু সাঈদ দিবস ঘোষণা করা হয়েছিল। পরে সেটা শহীদ জুলাই দিবস করা হলো। তারা জুলাই শহীদ দিবস পালন করার আরো দিন পেতেন। এই রকম একজন বৈপ্লবিক শহীদ, যার আত্মত্যাগ যুগে যুগে মানুষকে অনুপ্রাণিত করবে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য। তার জন্য কি ৩৬৫ দিন থেকে ১৬ জুলাই তার স্মরণে নির্ধারণ করা যেত না। তাকে স্মরণ করলে কি অন্য শহীদদের অপমান করা হতো। তার আত্মত্যাগ তো তাদের অনুপ্রাণিত করছে রাজ পথে নামার জন্য।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন