দেশে বাল্যবিয়ের হার সবচেয়ে বেশি রংপুরে। জাতীয় গড় ৫০ ভাগ হলেও রংপুর বিভাগে তা ৬৮ ভাগ। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রংপুর ও লালমনিরহাট জেলায়। রংপুরে ৫৩ দশমিক ৮ ভাগ আর লালমনিরহাটে ৫২ দশমিক ৬ ভাগ।
বিভাগে ১৬ বছরের আগে বাল্যবিয়ের হার ৩৮ ভাগ, রংপুরে ২৫ ভাগ ও লালমনিরহাটে ১৯ দশমিক ৭ ভাগ। এর মধ্যে রংপুর শহরাঞ্চলে ৪০ ভাগ ও গ্রামাঞ্চলে ৫৬ ভাগ এবং লালমনিরহাটে এ হার সমান।
২০২৩ সালে বাংলাদেশে ৪১ দশমিক ৬ শতাংশ কন্যাশিশুর ১৮ বছরের আগেই বাল্যবিয়ে হয়েছে। ২০২২ সালে এই হার ছিল ৪০ দশমিক ৯ শতাংশ, ২০২১ সালে ৩২ দশমিক ৪ শতাংশ এবং ২০২০ সালে ছিল ৩১ দশমিক ৩৪ শতাংশ। দেশে ১৫ বছর কিংবা তার কম বয়সি কন্যাশিশুর বাল্যবিয়ের এই হার ৮ দশমিক ১ শতাংশ, যা ২০২২ সালে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ ছিল।
মঙ্গলবার রংপুর মহানগরীর একটি হোটেলে কনফারেন্স রুমে জয়েন্ট অ্যাকশন গ্রান্ট প্রজেক্টের আয়োজনে ‘বাল্যবিয়ের পরিণতি ও করণীয়’ শীর্ষক দিনব্যাপী কর্মশালায় এ তথ্য জানানো হয়। এতে সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষক, সাংবাদিক, আইনজীবী, ধর্মীয় নেতা, কাজী, মানবাধিকারকর্মী ও শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
পপির নির্বাহী পরিচালক আরিফুল ইসলামের সভাপতিত্বে কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন রংপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আবু সাঈদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন রংপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম।
বাল্যবিয়ে কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে দরিদ্রতা, নিরাপত্তাহীনতা, সামাজিক সচেতনতার অভাবকে প্রধান অন্তরায় হিসেবে উল্লেখ করা হলেও আইনের যথাযথ প্রয়োগ না হওয়ায় রংপুর অঞ্চলে বাল্যবিয়ে কমছে না বলে মন্তব্য করেন অংশগ্রহণকারীরা।
তারা বলেন, বাল্যবিয়ের ফলে একজন শিশুর পেটে আরেকটি শিশু চলে আসে। ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়ে যায়। অপুষ্টি, জরায়ু ক্যানসার, শিশু মৃত্যুর মতো ঘটনা ঘটতে পারে। বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে সমাজের সব স্তরের মানুষকে এক হয়ে কাজ করতে হবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

