নিখোঁজের ৩ বছর পর ভারত থেকে লাশ হয়ে ফিরলেন খাইরুল। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দুপুরে ভারত-বাংলাদেশের চেংড়াবান্দা-লালমনিরহাট (বুড়িমারী) ইমিগ্রেশন হয়ে তার লাশ দেশে পৌঁছালে পরিবারের সদস্যরা তা গ্রহণ করেন। লাশ হস্তান্তর প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়া ‘রেডিও চিলমারীর’ স্টেশন ম্যানেজার বশির আহমেদ এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মৃত খাইরুল ইসলাম কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার গুনাইগাছ ইউনিয়নের পশ্চিম কালুডাঙা গ্রামের মৃত আব্দুল্লাহর ছেলে। পরিবারের তার স্ত্রী ও দুই ছেলে-মেয়ে আছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় সাড়ে ৩ বছর আগে খাইরুল নিখোঁজ হন। কিছুদিন পর শোনা যায় খাইরুল অবৈধভাবে ভারতে পালিয়ে গেছে। সেখানে গিয়ে পোশাক শ্রমিকের কাজ করাকালীন দুইবার ফোনে তার পরিবারের সদস্যদের সাথে কথাও হয়। তার কিছু দিন পরই অবৈধভাবে অনুপ্রবেশের দায়ে ভারতীয় পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে জলপাইগুড়ি থানায় নিয়ে যায়। এরপর গত ১০ ফেব্রুয়ারি ভারতীয় একটি মোবাইল নাম্বার থেকে খাইরুলের স্ত্রীর ফোনে কল আসে যে, খাইরুলের লাশ জলপাইগুড়ি জেল গেটে পড়ে আছে।
খবর শুনে খাইরুলের ছোট ভাই খয়বার আলী ১৪ ফেব্রুয়ারি কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক বরাবর দরখাস্ত দিয়ে খাইরুলের লাশ আনার ব্যাপারে সাহায্য চান। দুই দেশের আলোচনার মাধ্যমে দীর্ঘ ৩৮দিন পর বৃহস্পতিবার(১৯ মার্চ) দুপুরে লালমনিরহাট (বুড়িমারী) চেংড়াবান্দা ইমিগ্রেশন পথে কলকাতায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনের প্রতিনিধি, বিজিবি, বিএসএফ, দুই দেশের পুলিশ এবং কাস্টমস কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে লাশ হস্তান্তর করা হয়। খাইরুলের পরিবারের পক্ষে তার মামা ফুল মিয়া লাশ গ্রহণ করেন।
লাশ আনার ব্যাপারে সহায়তাকারী রেডিও চিলমারীর স্টেশন ম্যানেজার বশির আহমেদ বলেন, খাইরুলের মত্যেুর খবরে দরিদ্র পরিবারটি অসহায় হয়ে পড়েছিল। মানবিক ও সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে উভয় দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ শুরু করি। দীর্ঘ ৩৮ দিনের প্রচেষ্টায় আজ পরিবার লাশ বুঝে পেয়েছে। আজ রাতেই পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন করা হবে।
উলিপুর থানার ওসি সাঈদ ইবনে সিদ্দিক বলেন, আমরা মরদেহ ফেরত আনার ব্যাপারে তার পরিবার ও রেডিও চিলমারীর স্টেশন ম্যানেজারকে সার্বিক সহযোগিতা করেছি। অবশেষে লাশ দেশে আনা হয়েছে এবং দাফনের প্রক্রিয়া চলছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

