আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

মুরগির ডানায় স্বপ্ন দেখছেন চরাঞ্চলের ২০০ পরিবার

উপজেলা প্রতিনিধি, গঙ্গাচড়া (রংপুর)

মুরগির ডানায় স্বপ্ন দেখছেন চরাঞ্চলের ২০০ পরিবার

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের খোলা মাঠে সোমবার সকাল থেকেই ছিল ব্যস্ততা আর উৎসবের আমেজ। কারও চোখে কৌতূহল, কারও চোখে নতুন জীবনের স্বপ্ন। হাতে ঝুড়িতে দেশি মুরগি, পাশে নতুন কাঠের তৈরি মুরগির ঘর—এই সামান্য উপকরণই বদলে দিতে পারে চরাঞ্চলের ২০০টি পরিবারের ভাগ্য।

জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ নদী চরাঞ্চলের এসব পরিবারকে স্বাবলম্বী করে তুলতে এনজিও ফোরাম ফর পাবলিক হেলথের বাস্তবায়নে এবং জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) ও পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে এ সহায়তা প্রদান করা হয়। কর্মসূচিটি ‘বাংলাদেশের জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ উপকূলীয় ছোট দ্বীপ ও নদীর চরাঞ্চলের জন্য অভিযোজন উদ্যোগ’ প্রকল্পের অংশ।

বিজ্ঞাপন

প্রকল্পের আওতায় লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের প্রতিটি সুবিধাভোগী পরিবারকে ২০টি করে দেশি মুরগি, একটি মুরগি রাখার ঘর, ৫০ কেজি খাদ্য ও পানির পট প্রদান করা হয়।

আনুর বাজার এলাকার সুবিধাভোগী জোলেখা বেগম বলেন,“আমাদের ঘরে আগে এমন সুযোগ ছিল না। এখন মুরগি পেয়ে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছি।”

Amardesh_Rangpur.

আনুর বাজার পশ্চিম সরকারটারি এলাকার মোকলেছ উদ্দিন বলেন,“ইউএনডিপি আমাদের মুরগি, ঘর আর খাবার দিয়েছে, যাতে আমরা স্বাবলম্বী হতে পারি। আল্লাহ চাইলে এই মুরগিই আমাদের সংসার বাঁচাবে।”

লক্ষ্মীটারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী বলেন,“গরিব মানুষের মাঝে দেশি মুরগি বিতরণ নিঃসন্দেহে একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ। তবে এগুলোর যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। প্রশিক্ষণে শেখা বিষয়গুলো বাস্তবে প্রয়োগ করলে পরিবার ও প্রাণি—দুটোরই কল্যাণ হবে।”

ইউএনডিপির লাইভলিহুড অ্যাসোসিয়েট তনু মজুমদার বলেন,“শুধু উপকরণ দিলেই হবে না। টেকসই উন্নয়নের জন্য প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা জরুরি। আমরা আশা করি, এই উদ্যোগের মাধ্যমে সুবিধাভোগী পরিবারগুলোর জীবনমানের ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটবে।”

Amardesh_Rangpur

অনুষ্ঠানে উপস্থিত উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মাহফুজার রহমান বলেন,“এই সহায়তার মূল উদ্দেশ্য হলো পারিবারিক পুষ্টি নিশ্চিত করা এবং অতিরিক্ত মুরগি ও ডিম বিক্রির মাধ্যমে আয় সৃষ্টি করা। সঠিক পরিচর্যা ও প্রশিক্ষণের বাস্তব প্রয়োগ করলে এই ছোট উদ্যোগই বড় পরিবর্তন আনতে পারে।”

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন সিডিএ রফিকুল ইসলাম, এনজিও ফোরামের টেকনিক্যাল অফিসার মাহমুদ কবীর, এডমিন ও ফাইন্যান্স অফিসার কামরুজ্জামান, ফিল্ড ফ্যাসিলিটেটর মশিউর রহমান ও জাহাঙ্গীর আলম।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও দারিদ্র্যের সঙ্গে প্রতিনিয়ত লড়াই করা চরাঞ্চলের মানুষের কাছে এই সহায়তা শুধু একটি মুরগি বা খামার নয়—এটি আত্মনির্ভরতার পথে এক নতুন যাত্রার সূচনা। মুরগির ডানায় ভর করেই হয়তো বদলে যাবে লক্ষ্মীটারীর বহু পরিবারের জীবনের গল্প।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...